একদিকে ছোট মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান অপরদিকে বড় মেয়ের লাশ উদ্ধারের সংবাদ পেয়েছেন। এমন অবস্থায় কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না মা। তিনি কোনটা রেখে কোনটা করবেন তাই ভাবছিলেন। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

শেষ পর্যন্ত ছোট মেয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নারায়ণগঞ্জে বড় মেয়ের লাশ দেখতে আসেন মা। কিন্তু ততক্ষণে স্থানীয়রা মরদেহ দাফন করে ফেলেছেন। এমন ঘটনায় অত্যন্ত ব্যথিত মা।

ফতুল্লায় স্বামীর হাতে খুন হওয়া সেই রিমার মা জোসনা বেগম শুক্রবার (৩০ মার্চ) রাতে ফতুল্লা মডেল থানার কম্পাউন্ডে কান্নাজড়িত কণ্ঠস্বরে এসব কথা বলেন।

জোসনা বেগমের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার সাধুপাড়া এলাকায়। ওই রাতেই রিমা হত্যার ঘটনায় মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে জামাতা আলামিনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই হত্যা মামলায় আলামিনের মা ও বোন জড়িত বলে উল্লেখ রয়েছে।

নিহত রিমার পরিবার দাবি, গত বেশ কয়েক মাস যাবত রিমার উপর তার স্বামী আলামিন, শাশুড়ি জোবেদা বেগম ও ননদ বুবলি মিলে প্রচণ্ড অত্যাচার করে আসছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।

নিহতের মা জোসনা বেগম বলেন, ১৪ বছর আগে তার পরিবার ফতুল্লার কোতোয়ালের বাগ এলাকায় বসবাস করতো। ১ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে রিমা সবার বড়। ৩ বছর আগে একটি গার্মেন্টে কাজ করার সময় আলামিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর রিমার সঙ্গে আলামিনের বিয়ে হয়। এরই মধ্যে রিমার পরিবার পাবনা চলে যান।

প্রেম করে বিয়ে হলের বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় রিমার উপর অত্যাচার নির্যাতন। নিয়মিত অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে আলামিন। একটা পর্যায় গিয়ে শাশুড়ি জোবেদা বেগম ও ননদ বুবলি সহ স্বামী আলামিন মিলে রিমাকে ব্যাপক মারধর করার পাশাপাশি মাথার চুল কেটে দেয়।

অত্যাচার, নির্যাতন ও চুল কেটে দেয়ার কারণে ৩ মাস আগে রিমা তার বাবা-মা’র বাড়িতে চলে যায়। কিন্তু গত ২০ দিন আগে স্বামী আলামিন ও তার ননদ বুবলি পাবনা গিয়ে বুঝিয়ে রিমাকে নিয়ে আসে। সেই সময় জামাই আলামিনের কাছে ২০ হাজার টাকাও তুলে দেয় রিমার পরিবার।

দুঃখে কষ্টে ভারাকান্ত জোসনা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) আমার ছোট মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। এর ১০ দিন আগে আমি ফোন করে রিমা ও তার স্বামীকে দাওয়াত দিই। তখন আমার বড় মেয়ে রিমা জানায় তার স্বামীর হাতে এই মুহূর্তে টাকা নেই। ওই সময় রিমা ১০ হাজার টাকাও পাঠাতে বলে। আমি সেই টাকাও পাঠিয়ে দিয়েছি। কিন্তু বুধবার (২৮ মার্চ) শুনি আমার বড় মেয়ে রিমাকে মেরে ফেলেছে ওরা। বৃহস্পতিবার ছোট মেয়ের বিয়ের কারণেই আমার পরিবারের লোকজনের ফতুল্লায় আসতে একটু বিলম্ব হয়।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহজালাল জানান, শুক্রবার (৩০ মার্চ) রাতে নিহতের পরিবার এসেছে। নিহত মা জোসনা বেগম রিমার স্বামী আলামিনকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৮ মার্চ) বিকেল বেলা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কোতোয়ালেরবাগ এলাকার একটি বাড়ি থেকে রুমের তালা ভেঙে রিমা আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকে ঘর তালাবদ্ধ দেখেছে তারা। রিমার মরদেহ উদ্ধারের সময় পাশেই বসা ছিল দেড় বছর বয়সী শিশু নাহিদ। তিন দিন মৃত (রিমা) মায়ের আঙ্গুল চুসে বেঁচে ছিল ছোট শিশু নাহিদ।

কিন্তু সবার মনে একটাই কৌতুহল জেগেছে কিভাবে দেড় বছরের শিশু তিন দিন ধরে মৃত মায়ের আঙ্গুল চুসে খেয়ে বেঁচে ছিল।