‘সারি দুনিয়া কা বোঝা হাম উঠাতে হ্যায়’। ‘কুলি’ হয়ে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। লাল উর্দির সঙ্গে বড় মাপের মেটাল হ্যান্ড ব্যাজই জানিয়ে দিয়েছিল তাঁর পরিচয়। আজও মুখে মুখে ফেরে সেই গান। তবে সময়ের সঙ্গে বাস্তব পালটেছে ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

চেহারাটা এখন এমন, প্রায় ৮০ শতাংশ কুলি রেল থেকে বিদায় নিয়েছে। ভাটার এই টানেও রুটিরুজির তাগিদে এই পেশাকে বেছে নিয়েছেন এক নারী। সম্ভবত ভারতীয় রেলে একমাত্র মহিলা কুলি তথা সহায়ক সন্ধ্যাদেবী।

তাই সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতে দৈনিক ৪৫ কিলোমিটার পাড়ি দেন রুজির আশায়। ভারতের জব্বলপুর থেকে ট্রেনে কাটনি। তারপরই মাথায় তুলে নেন যাত্রীদের বোঝা। পারিশ্রমিক পেলে তবেই না সংসার চলবে!

হাড়ভাঙা খাটুনি, তবুও মহিলা বলে ব্রাত্য। বেশিরভাগ যাত্রীরা মহিলাকে শারীরিকভাবে দুর্বল ভাবেন। কিংবা মহিলাকে সম্ভ্রম করে এড়িয়ে চলেন। তবুও খাটনির খামতি নেই সন্ধ্যার। সারাদিন ট্রেন যাত্রীদের পিছনে ছুটে চলেন শুধুই অভাবের তাড়নায়।

কাটনির স্টেশন মাস্টারের কথায়, পুরুষ বা মহিলা কুলির মজুরি নির্ধারিত করা রয়েছে রেলে। সেই অনুযায়ী অর্থ দেন যাত্রীরা। তবে পুরুষ না মহিলা কুলি তাঁরা নেবেন সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়। রেলের লাইসেন্সধারী কুলি সন্ধ্যার মতে, খাটতে পারলে তবেই দু’পয়সা আসবে। তাই রোজকার ওই পরিশ্রম। সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখতে মায়ের এই প্রয়াস যাত্রীদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে কাটনিতে।