অনেক আশা নিয়ে প্রেমিককে বিশ্বাস করে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিল লুনা। স্বপ্ন দেখেছিলো প্রেমিক আরিফের হাত ধরে জীবনের শেষদিনটা কাটিয়ে দেয়ার। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
কিন্তু বিশ্বাসঘাতক আরিফের প্রতারণায় প্রাণ দিতে হলো এই কল্পনাবিলাশী লুনাকে।লুনা আক্তার (১৮) মুলাদী পৌর সদরের তেরচর গ্রামের আব্দুর রহমান হাওলাদারের মেয়ে ও মুলাদী ডিগ্রী কলেজের ডিগ্রী প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রেমিকের কাছ থাকে প্রতারিত হওয়ার দরুন লুনা নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ওই ঘটনায় লুনার বাবা আব্দুর রহমান হাওলাদার বাদী হয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি লুনার প্রেমিক হিজলা উপজেলার চর নরসিংহপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম মাঝির ছেলে আরিফ মাঝির বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় মামলা দায়ের করেন।
লুনার স্বজনরা জানায়, মুলাদী কলেজে একই শ্রেণিতে পড়ার সুযোগে আরিফ মাঝি লুনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আরিফকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখে লুনা। প্রেমের সম্পর্কের সুযোগে ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই লুনাকে বরিশালের একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করে আরিফ। পরবর্তীতে লুনাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে আরিফ। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি লুনা তার প্রেমিক আরিফকে বিয়ের কথা বললে আরিফ অস্বীকৃতি জানায়।
বিষয়টি আরিফের পরিবার জানতে পেরে ওদিনই তার বোন ও ভগ্নিপতি মোশারেফ হোসেন মোবাইল ফোনে লুনাকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে। লুনা তার প্রেমিক, প্রেমিকের বোন ও ভগ্নিপতির গালমন্দ সহ্য করতে না পেরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
এরপর হাসপাতালে দীর্ঘ ৩৬ দিন চিকিৎসা শেষে শনিবার (২৪ মার্চ) মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে লুনা।
এ বিষয়ে মুলাদী থানা পুলিশের ওসি জিয়াউল আহসান জানান, দুপুরে লুনার মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আগের দায়ের করা মামলাটি আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা হিসেবে গণ্য হবে। সেই সঙ্গে আসামিকে গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।





