কিছুদিন থেকে ভারতীয় বোর্ড চাপে আছে সেদেশের কর ও শুল্ক বিভাগের নতুন নীতিমালা নিয়ে। আর এটার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আইসিসি। এবার সেটি নিয়ে আবার নতুন জটিলতায় আইসিসি ও বিসিসিআই সম্পর্ক। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পরের আসর বসার কথা ভারতের মাটিতে। আর আইসিসি এই আসর টি-টোয়েন্ট ফরম্যাটে করতে চায়, কিন্তু আইসিসি’র সে প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। আর আইসিসিও হুমকি দিয়েছে ভারত রাজি না হলে প্রয়োজনে অন্যদেশে আয়োজন করা হবে এই টুর্নামেন্ট।

২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজনের কথা ভারতের। ভারতীয় একটি দৈনিকে প্রাকাশিত হয়েছে আইসিসি ও বিসিসিআই এর মধ্যকার এ দ্বন্দ্বের কথা। আইসিসি’র চাওয়া সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বিসিসিআই।

ক্রিকেটের বিশ্বায়নে আইসিসি’র চাওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে চালু হোক, কিন্তু আইপিএল দিয়ে বিশ্ব মাতানো ভারতীয় বোর্ড কোন ভাবেই চায় না এই ইভেন্ট টি-টোয়েন্টিতে ফরম্যাটে হোক।

আইসিসির ইভেন্টগুলোর মধ্যে বিশ্বকাপের পরেই এই টুর্নামেন্ট থেকে বেশি আয় আসে। টি-টোয়েন্টির জনপ্রিয়তার কথা চিন্তা করে আইসিসি এই টুর্নামেন্ট টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে করতে চায়। তবে বিসিসিআই সাফ জানিয়ে দিয়েছে আইসিসি যদি এমন কোন সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে ভারতীয় বোর্ড তার বিরোধিতা করবে।

আগে কয়েকবার ভারতে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ভারতীয় সরকারের কর নীতির জন্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে হয়েছে আইসিসির। ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০১১ সালের বিশ্বকাপে বড় অংকের লোকসান গুনতে হয়েছিল আইসিসিকে।

লোকসান হয়েছিল ২০১৬ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও। আর যদি ভারতীয় সরকার কর অব্যাহতি না দেয় তাহলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও বিশ্বকাপ প্রতিটাতেই আইসিসির লোকসান হবে ১০০-১২৫ মিলিয়ন ডলার।

তাই এবার আইসিসি নিজেদের স্বার্থের বিষয়ে বেশ সচেতন। বিসিসিআইকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের সরকার যদি কর অব্যাহতি না দেয় তাহলে আশেপাশের বিকল্প কোন দেশে ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের চিন্তা করছে। আয়োজকের কাতারে সবার আগে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা মিলে হতে পারে বিশ্বকাপ।

অনেক দিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারত আর আইসিসির এই উত্তেজনা কোথায় গিয়ে থামে সেটা দেখার অপেক্ষায় আইসিসি’র আর্থিক বন্টণ নীতিমালায় বঞ্চিত অনেক দেশ।