ভারতীয় ক্রিকেটার মুহাম্মদ শামির বিরুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই একের পর এক অভিযোগ করে চলেছেন তার স্ত্রী হাসিন জাহান। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাচ ফিক্সিং, বধূ নির্যাতন ও খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগও। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

বৃহস্পতিবারই শামিকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিসিসিআই। আজ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন হাসিন।

আজ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে যাবতীয় সমস্যার কথা জানান তিনি। প্রায় ২০ মিনিট চলে কথপোকথন। বৈঠক শেষে হাসিন জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী ধৈর্য ধরে সমস্ত অভিযোগ শুনেছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় ক্রিকেট দলের বোলার মুহাম্মদ শামির বিরুদ্ধে স্ত্রী হাসিন জাহানের অভিযোগগুলোর মধ্যে বধূ নির্যাতন ও খুনের চেষ্টা-সহ অন্যান্য অভিযোগে লাগাতার তদন্ত চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ।

শামির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহায্য চেয়েছিলেন হাসিন। সেই আবেদন মেনে গত বুধবার হাসিনকে সাক্ষাতের সময় দেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে বিধানসভায় পৌঁছান তিনি। বৈঠকের পর আশ্বস্ত দেখায় হাসিনকে। তিনি জানিয়েছেন, পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে, ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পেলেন ভারতীয় ক্রিকেটার মুহাম্মদ শামি। বোর্ডের তদন্তে তার বিরুদ্ধে স্ত্রী হাসিন জাহানের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফিক্সিংয়ের অভিযোগ থেকে শামি রেহাই পাওয়ার ফলে আইপিএল-এ দিল্লি ডেয়ারডেভিল্‌স-এর অংশগ্রহণ করার সব বাধা কেটে গেল। ভারতীয় দলের এই পেসারের সঙ্গে ৩ কোটি টাকা মূল্যের গ্রেড ‘বি’ বার্ষিক চুক্তি করতে চলেছে বিসিসিআই।

দেশের হয়ে ৩০টি টেস্ট খেলে এ পর্যন্ত ১১০টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন শামি। পাশাপাশি ৫০টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার ঝুলিতে গেছে ৯১টি উইকেট। ভারতীয় দলের হয়ে ৭টি টি২০ ম্যাচে শামি ৮টি উইকেট শিকার করেছেন।

মুহাম্মদ সামির বিরুদ্ধে তার স্ত্রী হাসিন জাহান একগুচ্ছ অভিযোগ করার পরে তার সঙ্গে বার্ষিক চুক্তি সাময়িক স্থগিত রাখে বিসিসিআই। অভিযোগের তালিকায় পারিবারীক নির্যাতন, হত্যার চেষ্টা, বিবাহবহির্ভূত অবৈধ সম্পর্ক এবং পাকিস্তানি মহিলার কাছ থেকে টাকা পেয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধে নাম জড়ায় ভারতীয় এ ক্রিকেটারের।

তবে সমস্ত অভিযোগই এ পর্যন্ত অস্বীকার করেছেন শামি। বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি প্রকাশ করে বোর্ড জানিয়েছে, ‘সামির বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগের তদন্ত করতে মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট নিয়োজিত কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্স (সিওএ) দিল্লির প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার অধুনা বিসিসিআই-এর দুর্নীতি দমন বিভাগের প্রধান নীরজ কুমারকে দায়িত্ব দিয়েছিল।

সিওএ-কে সেই তদন্তের গোপন রিপোর্ট জমা দিয়েছেন নীরজ কুমার। সেই রিপোর্টের ফলাফল অনুযায়ী বিসিসিআই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তার দুর্নীতি দমন শর্ত অনুসারে এই বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।’ সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, ‘এই কারণে মুহাম্মদ শামির সঙ্গে গ্রেড বি বার্ষিক চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া শুরু করবে বিসিসিআই।’

প্রসঙ্গত, এর আগেই বিসিসিআই শীর্ষ কর্তারা জানিয়েছিলেন, শামির ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা সম্পর্কে তারা আগ্রহী নন। ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে পারিবারীক নির্যাতন, খুনের চেষ্টা, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে অনুসন্ধান করছে কলকাতা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিসিসিআই-এর সভাপতি বিনোদ রাই জানিয়েছেন, ‘সামি এবং ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য খুব ভালো খবর। তার বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ কখনই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। তিনি দেশের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ খেলোয়াড়। দুর্নীতি দমন বিভাগের তদন্তেও তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। এ জন্য বিসিসিআই খুশি। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তিনি আবার জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে, তার চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না। আইপিএল-এ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তিনি মাঠে ফিরুক।’

শামির রেহাই পাওয়ার খবরে খুশি দিল্লি ডেয়ারডেভিল্‌স-এর সিইও হেমন্ত দুয়াও। এদিন তিনি বলেন, ‘এই মাত্র বিসিসিআই-এর থেকে জানতে পারলাম যে, সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন শামি। আমাদের দলের পক্ষে এই সংবাদকে স্বাগত জানাচ্ছি এবং তাকে ফেরত পেয়ে আমরা উল্লসিত বোধ করছি। তবে বোর্ডের নির্দেশাবলীও আমাদের মেনে চলতে হবে। ভালো হয়েছে যে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জেরেই তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।’