হাতে স্যালাইন দেওয়ার ক্যানোলা, ঘাড়ে আলাদা সাপোর্ট। এ অবস্থাতেই চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজায় ছুটে আসেন নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় আহত মেহেদী হাসান। এমন অবস্থায় কেন এলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই আর বাবুটাকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছি।’ ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
গত সোমবার ইউএস-বাংলার বিএস-২১১ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন ৪৯ জন। ওই উড়োজাহাজে ছিলেন মেহেদি হাসান, তার স্ত্রী সৈয়দ কামরুন্নাহার স্বর্ণা, ভাই ফারুক হোসেন প্রিয়ক, ভাইয়ের স্ত্রী আলামুন নাহার অ্যানি ও ভাইয়ের ছোট্ট মেয়ে তামারা প্রিয়ন্ময়ী। দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রিয়ক ও তার মেয়ে প্রিয়ন্ময়ী। আহত হন বাকিরা। নেপালে চিকিৎসার পর দেশে ফিরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারা।
মেহেদী বলেন, ‘আমি দ্বিতীয় জীবন পেয়েছি। আমি তাদের জানাজায় অংশ নিতে চাই। এজন্য ডাক্তারদের অনুমতি নিয়ে এসেছি। জানাজায় অংশগ্রহণের পরই আবার হাসপাতালে ফিরে যাব।’
কান্নাভেজা কণ্ঠে মেহেদি জানান, প্লেনের পেছনের দিকের পাঁচটি আসনে পাশাপাশি বসেছিলেন সবাই। মেহেদী বসেছিলেন জানালার পাশে। বিধ্বস্ত হওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে অবতরণের ঘোষণা দিয়ে সবাইকে সিটবেল্ট বাঁধতে বলা হয়। এ সময় মেহেদী জানালা দিয়ে দেখেন, ল্যান্ডিং গিয়ার বের হয়েছে। উড়োজাহাজটি অনেক নিচু দিয়েই উড়ছিল বেশ কয়েক মিনিট ধরে। সবই স্বাভাবিক ছিল। প্রথমে ভূমি স্পর্শ করে ছিটকে পড়ে উড়োজাহাজটি ভেঙে যায়। মেহেদী ও তার স্ত্রী সামনের ভাঙা অংশ দিয়ে নামতে পারেন। মেহেদী নেমেই নিচে কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে উদ্ধারকারীরা এসে তাদের নিয়ে যান। জানাজা শেষে আবারও হাসপাতালে চলে যান মেহেদী। তার ঘাড়, মাথাসহ বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লেগেছে। হাসপাতাল থেকে আলামুন নাহার অ্যানি গেছেন গাজীপুরের শ্রীপুরে। সেখানে কবর দেওয়া হতে পারে প্রিয়ক ও তামারাকে।





