দলে ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। টি-টোয়েন্টি দলের নিয়মিত অধিনায়ক ইনজুরি কাটিয়ে আবারো দলের হাল ধরছেন। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সবশেষ এই ফরম্যাটে মাঠে নেমেছিলেন। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলা হয়নি দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। খেলতে না পারার কারণ চোট। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকায় বসেছিল জিম্বাবুয়ে আর লঙ্কানদের নিয়ে ওয়ানডে সিরিজ। ত্রিদেশীয় ওই সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে খেলেছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা।
সেই ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে চোট লাগে বাম হাতের আঙ্গুলে। সেলাইও করতে হয়। সাকিব তখনও ভাবেননি এই চোটের কারণে দুই টেস্ট আর দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচে থাকতে হবে মাঠের বাইরে।
শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতার ৭০ বছর পূর্তিতে দেশটিতে আয়োজন করা হয়েছে নিদাহাস ট্রফি। স্বাগতিকরা ছাড়াও এতে মাঠ মাতাচ্ছে ভারত আর বাংলাদেশ। সিরিজ শুরুর আগে ১৬ সদস্যের বাংলাদেশ দলে ছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে চিকিৎসকের পরামর্শের কাছে আটকে পড়েন এই স্পিনিং অলরাউন্ডার।
উন্নত চিকিৎসার জন্য সাকিব শরণাপন্ন হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞ ডেভিড হয়ের। সেখানে সবুজ সংকেত মেলে খেলার জন্য। যদিও ডেভিড কয়দিন বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিলেও সাকিব ফিরছেন মাঠে।
আগামীকাল শুক্রবার প্রেমাদাসায় অনুষ্ঠিত হবে লঙ্কানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের অলিখিত ‘সেমিফাইনাল’ ম্যাচ। ফাইনালে যেতে এই ম্যাচে জয়ের কোন বিকল্প নেই। তার আগেই সাকিবকে দলে পাওয়াটা দলের জন্য বাড়তি শক্তি।
সাকিবের মাঠে থাকা মানে একজন বোলার বা একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান খেলানোর মতই।
কিন্তু বিপত্তি, সাকিবের প্রত্যাবর্তনে বাদ যাবেন কে? নিয়মিত ওপেনার সৌম্য সরকার নেই ফর্মে। সৌম্যকে ওয়ানডাউনে নামিয়ে লিটন দাসকে খেলানো হচ্ছে ওপেনিংয়ে। লিটনও খারাপ খেলছেন না বলা যায়। তিন নম্বরে ব্যাট করে সফল হয়েছিলেন মুশফিকও। তাই সৌম্যর যায়গায় মুশফিককেও খেলানো যায়।
বাদ বাকি থাকে মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু আর আবু হায়দার রনি। এই তালিকায় আছেন সাব্বির রহমানও। চলতি সিরিজে বল কিংবা ব্যাট কোনটাতেই প্রমাণ করতে পারছেন না এই অল-রাউন্ডার মিরাজ। তিন ম্যাচে তার রান ৩, ০, ৭ বল হাতে উইকেট শূন্য। প্রশ্ন উঠেছে তার টি-টোয়েন্টি দলে থাকা নিয়েও।
সুযোগ পেয়েও নিজেকে প্রমাণ করতে পারছেন না সাব্বির রহমান। হার্ডহিটার এই ব্যাটসম্যান খেলতে পারছেননা তার স্বভাবসুলভ খেলাটা। তিন নম্বারে ব্যাটিং করা এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান খেলছেন ৬ নাম্বারে। ব্যাট হাতে সাব্বির প্রথম ম্যাচে ৩০ পরের ম্যাচে শূন্য, সবশেষ ম্যাচে ২৭ রান করেন। এ যাত্রায় হয়তো আরেকটা ম্যাচে সুযোগ পেয়েও যেতে পারেন তিনি।
নাজমুল ইসলাম অপুকে নেয়া হয়েছিল সাকিবের বদলে। তিন ম্যাচ খেলে ফেললেও উইকেট শূন্য অপু। সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে বাম-হাতি অর্থোডক্স বোলারের দলে থাকা নিয়েও আছে সংশয়।
এই সিরিজে আবু হায়দার রনি খেলেছেন মাত্র এক ম্যাচ। ৪ ওভার বল করে উইকেট শূন্য রনি রান দিয়েছেন ৪৩। আগামীকালের ম্যাচে যদি আবারো তিন পেসার খেলানো হয় তবে রনি হয়তো আরেকটা সুযোগ পেতে পারেন।
সাকিব যেহেতু দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তাই আশা করাই যায় লঙ্কানদের বিপক্ষে এই ম্যাচে নিঃসন্দেহে খেলছেন। তার জায়গায় কে বাদ যাবে সেটা হয়তো সময়ই বলে দিবে।
বাংলাদেশ একাদশঃ
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, আরিফুল হক , মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, আবু হায়দার রনি।





