শত্রুতার ঝাল মেটাতে অবলা ৫ গরুকে কোপাল দুর্বৃত্তরা। আমতলীর উত্তর টিয়াখালী গ্রামে রোববার রাতে শক্রতার জের ধরে মতিয়ার রহমান শরীফের এসব গরু কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। একটি গরু গুরুতর আহত হওয়ায় জবাই করে গোশত বিক্রি করা হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মতিয়ার রহমান শরীফের সঙ্গে চাচাত ভাই শাহজাহান শরীফ ও ছোবহান শরীফের মধ্যে পৈত্রিক সম্পতি এবং খুরিয়ার খেয়াঘাটের যৌথ মালিকানার ১০টি দোকান নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ নিয়ে বরগুনার দেওয়ানী আদালতে ৫ বছর পূর্বে মতিয়ার রহমান শরীফ একটি বন্টন মামলাও করেন। জমি এবং দোকান ঘড় নিয়ে কয়েক দফা শালিস বৈঠকও হয়। তাতে দ্বন্দ্বের কোন সুরাহা হয়নি।
জমি জমা নিয়ে রোববার দুপুরের সময় চাচাত ভাই শাহজাহান শরীফ, ছোবহান শরীফ, ভাগিজা মাহাবুব শরীফ ও শামীম শরিফের সঙ্গে মতিয়ার রহমান শরীফের বাক বিতণ্ডা হয়। তখন মতিয়ার রহমান শরীফকে তারা দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
এ ঘটনার পর রোববার গভীর রাতে গোয়ালে বাঁধা ৫টি গুরু কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। সকালে ফজরের নামজ পড়তে উঠে এ অবস্থা দেখতে পান মালিক মতিয়ার রহমান। গরুর মধ্যে ২টি গাভী, ২টি বলদ ও ১টি বকনা বাছুর রয়েছে। এর মধ্যে ধারালো দায়ের কোপে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ১টি গাভীর ঘারের রগ দিখণ্ডিত এবং ভুড়ি বের হয়ে যাওয়ায় মুমূর্ষু অবস্থায় সকালে জবাই করে গোশত বিক্রি করা হয়।
গরুর মালিক মতিয়ার রহমান শরীফ অভিযোগ করে বলেন, তার চাচাতো ভাই শাহজাহান শরীফ, ছোবাহান শরীফ ভাইর ছেলে শামীম শরীফ ও মাহাবুব শরীফ আমাকে হত্যার উদ্দেশে আসে। আমাকে না পেয়ে তারা গরু কুপিয়ে আহত করে।
অভিযুক্ত শাজাহান শরীফের ছেলে মাহাবুব শরীফ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।
ইউপি সদস্য হাসানুজ্জামান ইউনুছ মোল্লা বলেন, শক্রতার জের ধরে পশুর সাথে এরকম হৃদয় বিদারক আচারণ ঠিক হয়নি।
আমতলী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: মোতাহার উদ্দিন মৃধা জানান, জমি জমা নিয়ে মীমাংসা প্রায় শেষে পথে। এসময় এরক একটি ঘটনা দুঃখজনক। নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে নিজেরা অথবা বাহির থেকে এঘটনা ঘটিয়ে কেউ ফায়দা নিতে পারে বলে আমার ধারণা। তবে তদন্ত সাপেক্ষে মীমাংসা করে দেওয়া হবে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সহিদ উল্যাহ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত গরুগুলোর চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





