সৌদি প্রবাসী এক যুবক আদম দালালের অত্যাচারের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক কাজ দেয়ার কথা বলে অন্য কাজ দেয়ায়, দালালের সঙ্গে দেখা করতে তার দারস্থ হলে অমানবিক অত্যাচারের শিকার হন বাহাদুর নামের সেই যুবক, মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত পেয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী বাহাদুরের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে থাকা অবস্থায়, আদম দালালদের সঙ্গে ভুক্তভোগী বাহাদুরের এক চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভিসা দেয়ার কথা সুপারমার্কেটে, কিন্তু ভিসা দেয়া হয়েছে দারোয়ানের। ইতোমধ্যে, এ ভিসার জন্য ৬ লাখ টাকা দিয়েছেন বাহাদুর।

বাহাদুর আদম দালালের সাথে যোগাযোগ করলে পরবর্তীতে তাকে ইকামা বানিয়ে দেয়ার কথা জানান আদম দালাল। কিন্তু ইকামাও বানিয়ে দেয়া হয়নি তাকে। একটা সময় ইকামা না থাকায় পুলিশ বাহাদুরকে আটক করে। পাসপোর্ট দেখিয়ে সৌদি পুলিশ থেকে বাহাদুর মুক্তি পায়।

কাজের সঙ্গে ভিসার মিল না থাকায় সৌদির জেদ্দায় দালালের দ্বারস্থ হন বাহাদুর। দালালরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে।

মারধরের ব্যাপারে জানতে চাইলে, বাহাদুর বলেন, আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে তারা, দালালরা আমাকে দোকানের ভিসা দেবে বলেছিলো। কিন্তু দিয়েছে বাসার দারোয়ানের (আমেল মঞ্জিল ভিসা) ভিসা । ৬ মাস পরেও চুক্তি অনুযায়ী ইকামা দেয়নি। ইকামা না থাকলে পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়।

তিনি আরো বলেন, কিছুদিন পর আমি দালালদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করি। তারা আমাকে বাসায় ডেকে প্রচুর মারধর করে। আমাকে রক্তাক্ত করেছে। এখানে দেখার মতো কেউ নেই। চোখে ক্ষত হয়েছে। এছাড়া দালালরা হুমকি দিয়েছে মারধরের কথা। পুলিশকে বা অন্য কাউকে জানালে আমাকে মেরে মরুভূমিতে ফেলে দেবে। দুনিয়া থেকে হারিয়ে দেবে।

আরো জানআ যায়, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর ইউনিয়ন লোহারপুলের দুলাল এবং সাইফুলের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ভিসা নেন তিনি। পরে জানতে পারেন এদেরই একটা চক্র সৌদিতে রয়েছে।

এ মারধরের বিষয়টি জানতে পেরে সৌদি আরব শাখা ছাত্রলীগ শাওন আহমেদ প্রিন্স ও এম শাহদাত হোসাইন পাটোয়ারী বিষয়টি সমাধানের ও দোষীর উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।