রোকছানা আক্তার রুবি। বয়স ৩৫। এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। ছেলে আব্দুল রাজ্জাক রুদ্র এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। মেয়ে নাফিসা ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। ফেলে আসা স্মৃতি মনে ছিল না তার। শুধু মনে পরে পিরোজপুর ও মঠবাড়িয়া থানার কথা।

এভাবেই দীর্ঘ ৩০ বছর পর বাবা রুস্তম আলীর দেখা পেলেন মেয়ে রোকছানা আক্তার রুবি। দীর্ঘদিন পর বাবাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়ে। এসময় এক হৃদয় বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়। আর সেই দৃশ্য দেখতে গ্রামের শত শত মানুষ ভিড় জমায় রুবির বাড়িতে।

ঘটনাটি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম ফকির পাড়া গ্রামের। এ গ্রামেই রুবির শ্বশুর বাড়ি। তার বাবার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মাঝেল পোল গ্রামে।

জানা যায়, সৎ মায়ের অত্যাচার সইতে না পেরে ৫ বছর বয়সে কাউকে না জানিয়ে প্রতিবেশী এক ফুপুর হাত ধরে ঢাকা শহরে পাড়ি জমাই রুবি।

গার্মেন্টসে চাকরি করা ফুফুর হাত ধরে নিজেও গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করেন। কোন রকমে অল্প বেতনে চাকরি করে দিন পার করছিলেন তিনি। রুবির সততায় মুগ্ধ ছিলেন সবাই। একদিন গার্মেন্টস কাটিং ম্যানেজার জাকির হোসেন বিয়ের প্রস্তাব দেন।

বিয়েতে রাজি হয়ে দুজনেই সংসার শুরু করেন। এক সময় দুজনে চাকরি ছেড়ে চলে যান স্বামীর গ্রামের লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম ফকির পাড়া গ্রামে। সেখানেই শুরু করি সংসার জীবন। এভাবেই কেটে যায় ৩০ বছর।

এক সময় তার স্বামী জাকির হোসেনকে নিজের গ্রামের বাড়ি ও বাবার কথা খুলে বললেন রুবি। তার স্বামী গত এক বছর ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে পিরোজপুরের মাঠবাড়িয়া থানায় তার বাবা মাকে খুঁজতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে পেয়ে যান।

এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি বাবা রুস্তম আলী মেয়েকে দেখতে ছুটে আসেন। এরপর সেখানে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা শুনে সেখানে শত শত মানুষ ভিড় জমায়।

৩০ বছর পর আবেগাপ্লুত হয়ে রুবি বলেন, অবশেষে আল্লাহর রহমতে আজ দীর্ঘ ৩০ বছর পর বাবাকে পেয়ে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছি। বাবা-মায়ের কথা বাদেই দিয়েছিলাম। আজ সেই দিনের কষ্টের কথাগুলো মনে হলে গা শিহরিত হয়ে উঠে।

স্বামী জাকির হোসেনও বাবা-মেয়ের এই সাক্ষাৎ পাওয়ায় অনেক খুশি। তিনি বলেন, স্ত্রীর পরিচয়ের জন্য