শিশু অপহরণের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক নারীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে বিবেচনায় দিয়ে ৮ মার্চ এ বিষয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আবেদনকারী মো. শফিউল্লাহ জানান, ওই নারী জামিনে বের হয়ে যদি তার আত্মীয়স্বজনকে না পায়, তাহলে তাকে সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের জন্য কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও সমাজ সেবা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শফিউল্লাহ জানান, কক্সবাজারের রামু উপজেলার পূর্ব ধেচুয়া এলাকার জনৈক ইসমাইলের স্ত্রী ও কাদির হোসেনের মেয়ে মনোয়ারা বেগম (৪৫)। তিনি ১৯৯৮ সালে ঝিলাংজা এলাকায় মো. আবুল কালামের বাড়িতে যান। সেখানে মনোয়ারা বলেন, ‘আমি আত্মীয়ের বাড়ি খুঁজতে আসছি, কিন্তু পাইনি। আপনাদের বাসায় থাকতে চাই।’
পরের দিন সকালে কালামের মেয়ে কক্সবাজার প্রিপারেটরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী রাজিয়া (৮) স্কুলে যায়। ওই সকালে মনোয়ারাও বিদায় নিয়ে বের হন। কিন্তু দুপুরের পর রাজিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে এক লোকের মাধ্যমে কালাম জানতে পারেন, রাজিয়াকে পাচারের উদ্দেশ্যে মনোয়ারা অপহরণ করে নিয়ে যান। এরপর ১৭ জুন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী সেতুর গোড়ায় পুলিশের কাছে রাজিয়াসহ আটক হন মনোয়ারা।
পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ২০০১ সালের ২৭ নভেম্বর কক্সবাজারের বিচারিক আদালত ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন অধ্যাদেশের ১২ ধারায় মনোয়ারাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। মনোয়ারা ১৯৯৮ সাল থেকেই সাজা ভোগ করে আসছিলেন।
আসামির জামিনের সময় আইনজীবী শফিউল্লাহ আদালতে বলেন, ‘মনোয়ারা বেগম দরিদ্র, গরিব। তার উকিল নিয়োগের সামর্থ্য নেই।’
ওই সময় আদালত বলেন, ‘বয়স কত?’ জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘তখন ২৫ বছর ছিল। এখন ৪৫ হয়েছে।’
আদালত বলেন, ‘বাবা-মা-আত্মীয় স্বজন আছে? জামিন দিলে কই যাবে? সে কি বিবাহিত?’
আইনজীবী বলেন, ‘ঘর-বাড়ি আছে। দরিদ্র তো, তাই হয়তো যোগাযোগ নেই।’
শফিউল্লাহর কথা শুনে আদালত বলেন, ‘আজ তো নারী দিবস। কিন্তু তার দীর্ঘ কারাবাস বিবেচনায় তাকে জামিন দিলাম। আর জামিনে মুক্তির পর মনোয়ারা যদি মনে করে, তার সামাজিক পুনর্বাসন দরকার, তাহলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও সমাজ সেবা অফিসার তাকে পুনর্বাসন করবেন।’





