মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদযাপনে আওয়ামী লীগের জনসভায় তিনি এ আহ্বান জানান।৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর ঐতিহাসিক এদিনের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কেউ পরেনি। আমার আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা জীবনবাজি রেখে এই ভাষণ প্রচার করেছে। ইতিহাসও যে প্রতিশোধ নেয়, আজ তা প্রমাণ হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা মানবতার বিরুদ্ধে কাজ করেছে, এদেশের মানুষকে গণহত্যা করেছে, মা-বোনদের ইজ্জত লুটেছে, হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে, এই যুদ্ধাপরাধী-খুনিরা যেন এদেশের ক্ষমতায় না আসতে পারে, এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।শেখ হাসিনা বলেন, যারা এতিমের টাকা চুরি করে, যারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে, দেশের মানুষকে হত্যা করে এবং আগুন দিয়ে পোড়ায়, এরা যেন আর কোনদিন ক্ষমতায় না আসতে পারে। দেশকে যেন আর ধ্বংসের দিকে না নিতে পারে। মুক্তিযুদ্ধে চেতনায় যেন বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
এসময় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উন্নয়নের কাজ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। ভবিষ্যতে যা করবো, তাও মানুষের কাছে তুলে ধরবেন। কৃষক-শ্রমিক-তাঁতী, কামার-কুমার সবার জন্য আওয়ামী লীগ কাজ করছে। দলিত, হরিজন ও হিজড়াদেরও অনুদান দিচ্ছি।
এসময় উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আজকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মাছ উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয়। চাল উৎপপাদনে চতুর্থ। এভাবে বাংলাদেশের যাতে কারো কাছে হাত পাততে না হয়, সে ব্যবস্থা করছি।তিনি বলেন, ৪৯টা বৃহৎ সেতৃ নির্মাণ করেছি। প্রবৃদ্ধি অর্জনে সারাবিশ্বের পাঁচটি দেশের একটি বাংলাদেশ, সেই সম্মান আমরা পেয়েছি। আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সারাবিশ্বে সম্মান পেতে যাচ্ছি। অতি শিগগিরই আমরা সেটা পাব।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের কাছে আমাদের একটি আহ্বান, এই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক যেন কোনোভাবে আমাদের যুব সমাজকে ধ্বংস করতে না পারে, সেদিকে আপনারা সজাগ থাকবেন।
ভাঙ্গা সুটকেস থেকে জাদুর বাক্স, ছেড়া গেঞ্জি থেকে ফ্রেন্স শিপন
এসময় আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু এর আগে জেনারেল জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের সময় তো দেশের উন্নয়ন করে পারেনি। কেন করতে পারেনি? কারণ একটাই- তারা তো স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করতো না। উন্নয়নে বিশ্বাস করতো না। তারা স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে রাষ্ট্র চালাতে চাইতো।তিনি বলেন, যারা এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতো না, তারা এদেশের উন্নতি কেন করবে? নিজেদের উন্নতি হয়েছে। ভাঙ্গা সুটকেস জাদুর বাক্স হয়ে গেছে আর ছেড়া গেঞ্জি থেকে ফ্রেন্স শিপন বের হয়। ওই ফ্রেন্স শিপন বের হতে আমরা দেখেছি। দেশের মানুষের ভাগ্য কখনো পরিবর্তন তারা করেনি।
প্রমাণ হয়েছে ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় আসে। স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় এলে একটা দেশের উন্নয়ন হয় কিভাবে? পাকিস্তানের পদলেহন করাই ছিল তাদের কাজ।তিনি বলেন, তারা ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। যেখানেই এই ৭ মার্চের ভাষণ বাজতো, তারা বাধা দিত। আমি স্যালুট জানাই, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আমাদের নেতাকর্মীদের। সকল বাধা উপেক্ষা করে এই ভাষণ বাজানো হয়। এই ভাষণ বাজাতে গিয়ে আমাদের কত নেতা-কর্মী আহত হয়েছে, মৃত্যুবরণ করেছে, গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তারপরও তারা থেমে থাকেনি। এই ভাষণ তারা বাজিয়েছে।
বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, জাতির পিতার নামটিও তারা মুছে ফেলতে চেষ্টা করেছে। এমনকি টেলিভিশনের কোনো প্রসঙ্গে যদি তার নাম আসত, ওই নাম মুছে যেত। যদি অনেক ছবির মধ্যে ছবি আসত, সেটাকে ঝিরঝির করে দেখানো হত। এমনভাবে ইতিহাস বিকৃতি ও চরিত্র হনন করা হত। কিন্তু ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না। ইতিহাস কেউ নিশ্চিহ্ন করতে পারে না। ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়। আজকে তা প্রমাণ হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকে সারাবিশ্বে প্রমাণ হয়েছে। এই ৭ মার্চের ভাষণ আজ ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক ঐহিহ্যের প্রামাণ দলিলে স্বীকৃতি পেয়েছে। আড়াই হাজার বছরের যত ভাষণ, তার মধ্যে গবেষণা করে ব্রিটিশ সাংবাদিক লেখক জ্যাকব এপ্রিল গবেষণা করে ৪১টি ভাষণ বাছাই করেছিল, যার মধ্যে জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ স্থান পেয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এই ভাষণে বাঙালি জাতির ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস, মুক্তির জন্য সংগ্রামের ইতিহাস, পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ অত্যাচার ও নির্যাতনের ইতিহাস একদিকে ওঠে এসেছে, অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় করণীয় জাতির পিতা বলে গিয়েছিলেন। প্রত্যেকটা মানুষকে অসহযোগ আন্দোলনের নির্দেশ দিয়েছেন।
একদিন গরম খাবার খেতে পারেনি ইয়াহিয়া খান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইয়াহহিয়ার সামরিক ফরমান বাংলাদেশের মানুষ ছুড়ে ফেলে দিত। ৩২ নম্বর থেকে যে নির্দেশনা দিত, তারা মেনে নিতো, এমনকি সে নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করত। একটি ঘটনা আমি বলি- ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসলো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করতে। সেখানে বাঙালি বাবুর্চি ছিল, তারা রান্না করবে না। একদিন সে গরম খাবার পায়নি।তিনি বলেন, তখন রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ৩২ নম্বরে ফোন গেল যে, আপনি অসহযোগের ডাক দিলেন, কেউ তো এখন কাজ করে না। বাঙালি হাত গুটিয়ে বসে আছে, নির্দেশ না পেলে কাজ করবে না। ৩২ নম্বর থেকে যদি বলা হয়, তাহলেই তারা রান্না করবে, না হয় তারা চুলা জ্বালবে না। স্বাভাবিকভাবে যখন ৩২ নম্বর থেকে বলা হলো, যাও তোমরা রান্না করতে পারো। তারপরেই ইয়াহিয়া খান গরম খাবার খেতে পেয়েছিল। সেদিনই ইয়াহিয়া খান বুঝে গিয়েছিল যে, এখানে তাদের কোনো স্থান নাই।
ইয়াহিয়া খানের ডায়েরিতে যা ছিল
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতাকে রাষ্ট্রদ্রোহী করে ইয়াহিয়া খান ২৬ মার্চ ভাষণে ঘোষণা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করে বিচার শুরু করেছিল। ইয়াহিয়া খান তার নিজের ডায়েরিতে লিখেছেন- যখন ওই বিচার চলত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে কোর্টে আনা হত, তিনি কোর্টে বসতেন, বলতেন জয় বাংলাদেশ। মনে হত যেন, কোনো বাঘের বাচ্চা এসে বসেছে, যার ডর-ভয় নেই।
বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, সেখানে বসেই তিনি আগে জয় বাংলাদেশ বলতেন। কারণ তিনি বলতেন, তোমরা বিচার করে কী করবে? আমার কাজ আমি করে দিয়ে এসেছি। বাংলাদেশ স্বাধীন হবে। আমাকে ফাঁসি দিয়েও কিছু করতে পারবে না। যদি পার, আমার লাশ বাংলার মাটিতে পৌঁছে দিও।
রোহিঙ্গাদের যে কারণে আশ্রয়
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু নিজের দেশের মানুষের খাদ্য-বাসস্থান দেই না। মিয়ানমারের ১০ লক্ষ মানুষ, যাদের ওপর অকথ্য অত্যাচার হয়েছে। তারা বাংলাদেশের আশ্রয় চেয়েছে, মানবিক কারণে আমরা আশ্রয় দিয়ে মানবতার পরিচয় দিয়েছি।তিনি বলেন, কেন দিয়েছি? কারণ আমাদেরও একদিন দুর্দিন ছিল। পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর কারণে এ দেশ ছেড়ে ভারতের মাটিতে ১ কোটি মানুষকে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। সেকারণে আজকে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি, খাদ্য দিয়েছি। সারাবিশ্ব আজ বাংলাদেশের পক্ষে, সম্মান জানাচ্ছে, সাধুবাদ জানাচ্ছে। আমরা মানবতার জন্য কাজ করি।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন ও কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন, ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ, দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার, মহিলা লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাউছার, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।
জনসভায় কবি নির্মলেন্দু গুণ তার কালজয়ী কবিতা ‘স্বাধীনতা, শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ আবৃত্তি করেন। এর আগে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। মমতাজ, রথিন্দ্রনাথ রায়, শফি মণ্ডল, আলম দেওয়ান, তমালিকা চক্রবর্তী ও বর্ষা দেশত্মবোধক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীত পরিবেশন করেন।
স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি জনসমাগম
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিনে আওয়ামী লীগের জনসভাকে কেন্দ্র বুধবার পুরো রাজধানী পরিণত হয়েছিল মিছিলের নগরীতে।
আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হওয়ার অনেক আগেই থেকেই ঢাকা ও তার আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রঙ বেরঙের পোশাক পরে অনুষ্ঠানস্থলে মিছিলসহ আসতে থাকেন নেতাকর্মীরা। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থ ও আর আশপাশের এলাকা ও রাস্তা যেন পরিণত হয় জনস্রোতে।সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর আশপাশের এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নেতাকর্মীদের লাল-সবুজের টি-শার্ট ও মাথায় ক্যাপ পরে পায়ে হেঁটে বা পিকআপ ভ্যান, ট্রাক ও বাসযোগে বিভিন্ন সড়ক ধরে মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যান।মিছিলে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা ছিলেন।
রাজধানী ঢাকা ছাড়াও আশপাশের জেলা গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও নরসিংদী থেকেও নেতাকর্মীরা বাস, ট্রেন ট্রাকযোগে ঢাকায় আসেন। পরে জয় বাংলা শ্লোগান দিতে দিতে এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নেচে-গেয়ে জনসভাস্থলে যান তারা। তাদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন, অনেকের গায়ে লাল-সুবুজের টি-শার্ট, মাথায় টুপি দেখা গেছে।এছাড়া নেতাকর্মীদের বড় একটা অংশ মূল সমাবেশস্থলে প্রবেশ না করে শাহবাগ হয়ে টিএসসি, বাংলা একোডেমী, দোয়েল চত্বর, শিক্ষাভবনের রাস্তায় মিছিল নিয়ে শোডাউন করেছে। এসময় তারা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে সোহরাওয়র্দী উদ্যানের চারপাশ। ঢোল-তবলাসহ বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্ত্রের ব্যঞ্জনায় পুরো এলাকায় বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।
সমাবেশে নৌকার ঢেউ
এদিকে ৭ মার্চের এই জনসভায় ব্যতিক্রমী মহড়া দেয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ। লাল-সবুজের রঙে তৈরি হাজার হাজার নৌকা নিয়ে তারা হাজির হন। জনসভাকে ভিন্নরূপ দিতে জনসভা থেকে নৌকার ঢেউ তুলেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৩৫ হাজার সবুজ গেঞ্জি, সুবজ ক্যাপ পরিহিত যুব নেতারা মাঠে নৌকার মাঝি সেজে বসে থাকেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রীসহ দলের সিনিয়র নেতাদের বক্তব্যের সময় নৌকা উপরে তুলে ধরে ঢেউ তোলেন তারা।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শোডাউন
এদিকে জনসভাকে কেন্দ্র করে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যপক শোডাউন করতে দেখা গেছে। জনসভায় নিজ নিজ অনুসারী ও সমর্থকদের নিয়ে মিছিলসহ প্রবেশ করেন তারা। তাদের ব্যানার, ফেস্টুন, টি-শার্ট টুপিতে বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার পাশাপাশি নিজেদের ছবি শোভা পায়।
মঞ্চে ছিল বঙ্গবন্ধুর অস্থায়ী ভাস্কর্য
এই জনসভায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চের পরিবেশ এবং ভাষণের আবহ ফুটিয়ে তুলতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর একটি অস্থায়ী ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটির পরনে সাদা পাঞ্জাবি আর তার ওপর কালো কোট ছিল। সেই সঙ্গে সেদিনের তার সেই অঙ্গভঙ্গি।
মঞ্চে স্থাপিত ভাস্কর্যটিতে বঙ্গবন্ধুর সেদিন (৭ই মার্চ) আঙ্গুল উঁচিয়ে বাংলার আপামর জনতাকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হতে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি পাকিস্তানি সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দেয়া শেখ মুজিবুর রহমানের অবিকল ব্যক্তিত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।ওবায়দুল কাদেরের দুঃখ প্রকাশ এদিকে আওয়ামী লীগের জনসভা শুরুতেই সৃষ্ট যানযটের জন্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তাদের সহনশীল হওয়ার অনুরোধ করেন।তিনি বলেন, আমরা আমাদের অন্যান্য জনসভাগুলো ছুটির দিনে শুক্রবার ও শনিবার করেছি। কিন্তু এই দিনটি সকল বাঙালির সম্পদ। এই দিনটি পরিবর্তন করা যায় না। আপনাদের একটু কষ্ট হলেও সহনশীল হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই। স্বাধীনতাবিরোধীরা এই দিনটি মুছে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আর এটি কেবল বাঙালির ইতিহাস নয়, সারা বিশ্বের সম্পদে পরিণত হয়েছে।





