আফ্রিকার দেশ মালিতে ভয়াবহ আইইডি বিস্ফোরণে নিহত মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরালিদহ গ্রামে ল্যান্স করপোরাল আক্তার হোসেনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

বড় সন্তানের মৃত্যুতে পরিবারটির সামনে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। খবর পেয়ে প্রতিবেশী স্বজনরা সহমর্মিতা জানাতে উপস্থিত হলেও বাড়ির ছোট শিশু জান্নাতুল মাওয়া নির্বিকার খেলাধুলা করছে। সে জানে এবারের ঈদে বাবা ঠিকই তার জন্য লাল পোশাক নিয়ে আসবেন।

বুধবার মাইন বিস্ফোরণে নিহত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের চার বাংলাদেশি সেনা সদস্যের একজন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বরালিদহ গ্রামের দরিদ্র কৃষক আবু তালেব মোল্যার বড় ছেলে আকতার হোসেন। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান মোস্তাক ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করলেও বড় ছেলের মৃত্যুতে দিশেহারা তাদের পরিবার।

স্বজনরা জানায়, ২১ বছর আগে আকতার সেনাবাহিনীতে যোগদান করলেও বাবা-মা ছাড়াও দুটি কন্যার ভরণপোষণ নিয়ে ছিল খুবই চিন্তিত ছিলেন। অনেক ঝুঁকি সত্ত্বেও অর্থনৈতিক সুবিধার আশায় আকতার হোসেন ১০ মাস আগে শান্তিরক্ষী মিশনে যোগ দেন। সর্বশেষ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। মালিতে প্রাণ হাতে নিয়ে চলতে হয় বলে মা হাসিনা বেগমের কাছে দোয়া চেয়েছেন। অনেক কথা বলেন স্ত্রী রেনুর সঙ্গে। বড় মেয়ে রিমি এবার নাকোল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তার খবর জানতে চান। বাদ যায়নি ৭ বছরের ছোট্ট মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া। ঈদের আগে বাড়িতে ফিরবে। তার জন্য লাল পোশাক নিয়ে আসবে ফোনে জানিয়েছে। আর এমন বিশ্বাস আর আনন্দ বুকে নিয়ে খেলা করে বেড়াচ্ছে মাওয়া। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হাজার মাইল দূরের যুদ্ধবিধ্বস্ত মালিতে রক্তাক্ত লাশ হয়ে পড়ে আছে সে।

শুক্রবার সকালে বরালিদহ গ্রামের পূর্বপাড়ায় নিহত সেনা সদস্য আকতার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের আহাজারি দেখা যায়। বারবারই মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী রেনু। বড় মেয়ে রিমি ডুকরে ডুকরে কেঁদে ওঠছে তার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর বাবার শোকে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। দেশটিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের প্রায় ১১ হাজার সৈন্য কাজ করছে।