বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই পতাকা বৈঠকে বসেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ঘুমধুমের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্পে পতাকা বৈঠকটি শুরু হয়। এতে বিজিবির পক্ষে সাত সদস্যের একটি দল অংশ নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবির একটি সূত্র।
এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সীমান্তে হঠাৎ করেই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার। সামরিক পিকআপ, ট্রাক ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিপুল সংখ্যক বিজিপি সদস্য শূন্য রেখা থেকে প্রায় দেড়শ গজ ভেতরে অবস্থান নেয়। ফলে সেখানে আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত লিউন উকে তলব করা হয়। এ ঘটনার জোরালো প্রতিবাদ জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যদিও এক দিন পেরিয়ে গেলেও সীমান্ত পরিস্থিতির তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। সীমান্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে সেখানকার স্থানীয় সূত্র।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাখাইন থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা আনুমানিক সাত হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশের তমব্রু সীমান্তের শূন্য রেখায় আটকে রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই মিয়ানমারের বিজিপি তাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করেই তুমব্রু সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধি করে মিয়ানমার। এরপর বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবির অবস্থান জোরদার করা হলে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ভারী অস্ত্র-শস্ত্র সরিয়ে নেয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে সে দেশের সেনাবাহিনী নিপীড়ন ও গণহত্যা চালানো শুরু করলে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তাদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিলেও নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আহ্বানসহ দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার।





