বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তে জিরো পয়েন্টে ডুকতে আবারও প্রস্তুতি নিয়েছে মিয়ানমারের সেনারা। তুমব্রু সীমান্তের ৭টি পয়েন্টে কাঁটাতারের বেড়া পার হতে মই বসিয়েছে তারা।

এই মই দিয়ে গতকাল রাতে জিরো পয়েন্টে ঢুকে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল বার্মিজ সেনারা। সেইসঙ্গে নো-ম্যান্স ল্যান্ড থেকে রোহিঙ্গাদের সরে যেতে এখনও মাইকিং অব্যাহত রেখেছে তারা।

এদিকে, কাঁটাতারে আবারও মই বসানোয় আতঙ্ক বিরাজ করছে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মাঝে।
তুমব্রু সীমান্তের রোহিঙ্গা দিল মোহাম্মদ জানান, আমরা সারারাত নির্ঘুম কাটিয়েছি। রাতে মিয়ানমার সেনারা কাঁটাতারে মই দিয়ে জিরো পয়েন্টে ঢোকার চেষ্টা করে। শুক্রবার দুপুর থেকে আবারো সেই মই বসিয়েছে মিয়ানমার। সারারাত আতঙ্কে ছিলাম, এখনও ভয়ে আছি। মিয়ানমার সেনারা যেকোনো সময় আবারো জিরো পয়েন্টে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে।

মো. ইউসুফ নামের এক রোহিঙ্গা জানান, রাতে তারা আমাদের উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়েছে। এরপর থেকে আমাদের মা-বোনদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।এদিকে, সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা মোতায়েন নিয়ে আজ বিকেলে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সাথে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির একটি পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল আহসান খান পতাকা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার তুমব্রু সীমান্তে কাঁটাতারের কাছে প্রায় তিন শতাধিক সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার। ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেনারা রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি দেখায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানরত প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা।

এদিকে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অংশ থেকে আজ শুক্রবারও ফাঁকা গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে বেশ কয়েকটি ফাঁকা গুলির শব্দ পাওয়া যায়।এ ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সদস্যরা।

এর আগে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের জিরো পয়েন্টে ঢুকে হামলা ও ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। পরে রোহিঙ্গারা জবাব দিলে পিছু হটে সেনা সদস্যরা। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে। সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের সীমান্তবাহিনী বিজিবির সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে মিয়ানমারের সেনা সদস্যরা কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে জিরো লাইনে আসতে চাইলে রোহিঙ্গারা বাধা দেন। এ সময় তারা কাঁটাতারের বেড়ার কাছে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেন। এতে আতঙ্কিত বেশ কিছু রোহিঙ্গা পরিবার জিরো লাইন ছেড়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আশ্রয় নেয়। স্থানীয়দের বসতবাড়িতেও আশ্রয় নেন অনেকে।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ও সদস্য আবদুর রহিম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘মিয়ানমার সেনা বাহিনী গুলিবর্ষণ করলে কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলে আসেন। এদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।’

এর আগে বৃহস্পতিবার তুমব্রু সীমান্তে হঠাৎ করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সৈন্য সংখ্যা বাড়ায়। অস্ত্র নিয়ে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে অবস্থান নেয়।ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি হালকা অস্ত্রও তাক করেছে দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় সীমান্তের জিরো লাইনে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।