প্রেম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যাত্রাবাড়ীতে মহল্লার কয়েকজন বখাটে যুবকের সাথে ঝগড়া বাঁধে অর্ণব নামে এক শিক্ষার্থীর। খবর শুনে অর্ণবের বন্ধু রাকিবুল আসে ঝগড়া থামাতে। কিন্তু বখাটেদের হামলায় সেখানেই মৃত্যু হয় তার। ঘটনায় আহত হয় মুন্না নামে অপর এক বন্ধু। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়।
নিহত রাকিবুল মাতুয়াইল বহুমখী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবার নাম সুলতান মিয়া। অাহত মুন্না একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। তার বাবা অাব্দুল মন্নান সিএনজি চালক। বন্ধু অর্ণব শাহবাগের কোনো একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ও লেভেলে পড়ে। তারা সবাই একই মহল্লায় থাকে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে।মুন্না বলেন, বুধবার
সন্ধ্যায় অামাদের বন্ধু অর্ণব অামাকে ও রাকিবকে ফোন করে জানায় এলাকার লবণ ফ্যাক্টরির পাশে কয়েকজন বখাটের সঙ্গে তার প্রেমিকা নিয়ে ঝগড়া হইছে। অামাদের সেখানে অাসতে বলে সে। একথা শুনে অামরা দুই বন্ধু যাই সেখানে। সেখানে গিয়ে দেখি চারজন বখাটে অামাদের বন্ধুকে খারাপ খারাপ কথা বলতেছে। এসময় খারাপ অাচরণ না করতে নিষেধ করে রাকিবুল। রাকিবুল নিষেধ করার কে একথা বলে তেড়ে এসে তাকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে যুবকরা। একপর্যায়ে রাকিবের রানের ওপর চুরি মারে তারা। বন্ধুকে রক্তাক্ত দেখে অামি চিৎকার করলে অামার চোখের ওপর কয়েকটা ঘুষি মারে তারা। এতে অামি চোখ ধরে মাথা নিচু করার সঙ্গে সঙ্গে অামার পিঠেও চুরি মারে তারা। এসময় বন্ধু রাকিবের পেটে ও পিঠে একাধিক ছুরিকাঘাত করে তারা পালিয়ে যায়। পরে অন্য বন্ধুরা অামাদের হাসপাতাল নিয়ে অাসে।
তবে ওই বখাটেদের কাউকে চিনে না বলে জানিয়েছে মুন্না। এমনকি অাগে কখনও তাদের দেখেওনি বলে জানায় সে। তারা কে বা কোথায় থাকে এসব জানার অাগেই তাদের ওপর হামলা হয় বলে জানায় সে। তবে বন্ধু অর্ণব তাদের চিনতে পারে বলে ধারণা মুন্নার।
নিহত রাকিবের মা ময়না বেগম বলেন, বন্ধুদের ঝগড়া মেটাতে গিয়ে অামার ছেলের প্রাণ গেল। কিন্তু কারা এই কাজ করেছে কেউ কিছু বলছে না। যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করবেন বলে জানান তিনি।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, এখনও মামলা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এরপর বলা যাবে আসলে কী ঘটেছে।





