পরীক্ষা নিয়ে টেনশন হতই। কিন্তু পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই চরম সিদ্ধান্ত। হস্টেলের বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হল লরেটো কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ। ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে মিডলটন রো-র ওয়াইডব্লুউসিএ হোস্টেলে।

ভারতের জামসেদপুরের রিয়া চৌধুরী বরাবরই অন্তর্মুখী, অন্তত এমনটাই জানাচ্ছেন তাঁর রুমমেটরা। পড়াশোনা নিয়ে একটু বেশিই চিন্তায় থাকতেন তিনি। কিন্তু এমন যে চরম সিদ্ধান্ত নেবেন, তা ভাবতে পারেননি কেউই। হিন্দি পরীক্ষা যে খুব একটা ভালো হয়নি, তা ফিরেই রুমমেটদের জানিয়েছিলেন।

সোমবার পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নিজের হোস্টেলেই ফিরে আসেন রিয়া। তাঁর বাকি রুমমেটরা তখনও এসে পৌঁছননি। ঘরে ফেরার পর রিয়াকে দেখছিল না বাকি রুমমেটরা।

তাঁদের কথায়, প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন রিয়া ঘরে ফেরেননি। তাই একদম প্রথমেই খুব একটা আমল দেননি তাঁরা। এক রুমমেট বাথরুম যান, দরজা বন্ধ দেখে ফিরে আসেন। তারও কিছুক্ষণ পর অন্যজন বাথরুমে গিয়েও একই অবস্থা দেখেন। পরে সন্দেহ হওয়ায় হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে খবর দেন তাঁরা। দরজা ভেঙে রিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কিন্তু রিয়ার রুমমেটদের দাবি মতো, শুধুই কি পরীক্ষার ফল খারাপ বলেই আত্মহত্যা? নাকি এর পেছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে? রিয়ার আত্মহত্যার নেপথ্যে কোনও প্রেমঘটিত কারণ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রিয়ার চার রুমমেটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। রিয়ার মোবাইল ফোন খুটিয়ে দেখা হচ্ছে, দেখা হচ্ছে কললিস্ট, হোয়াটসঅ্যাপ কলের ডিটেলসও।
এদিকে হস্টেলের সিসিটিভি বিকল থাকায় তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। রিয়ার বাবা-মা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।