পাখির আঘাতের কারণে বিমান আটকে যাওয়ার ঘটনা আছে অনেক কিন্তু মশার কারণে ফ্লাইট বিলম্ব- বিশ্বে হয়তো প্রথম ঘটনা এটি।

অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার রাতে এমনই এত ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা। মশার উৎপাতের কারণে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ছাড়তে নির্দিষ্ট সময় থেকে দুই ঘণ্টা দেরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার পথে ফ্লাইটটি রওনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মশার কারণে দুই ঘণ্টা উড়তে পারেনি সেটি। পরে রাত ২টা ৪৬ মিনিটের দিকে ওই উড়োজাহাজ রওনা দিতে পেরেছে।

বিমানবন্দরের একটি সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে আলফা-২ বে এরিয়া থেকে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের (এমএইচ ১৯৭) ফ্লাইটটি যাত্রীদের নিয়ে উড্ডয়নের জন্য রানওয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ওঠার সময় মশাও ঢুকে পড়ে। মশার উৎপাতে যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে অভিযোগ করেন কেবিন ক্রুদের কাছে। বাধ্য হয়ে রানওয়ের পরিবর্তে পুনরায় বে এরিয়ার উড়োজাহাজটি ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন বৈমানিক। এরপর মশা নিধন চলে প্রায় দুই ঘণ্টা। রাত পৌনে ৩টার দিকে পুনরায় ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। এ ঘটনায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন এয়ারলাইন্সটির কর্মীরা। অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলোকেও মশার কারণে বিপত্তিতে পড়তে হয়েছে বলে জানা যায়।

এ সময় যাত্রীদের সবাইকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ফ্লাইটের যাত্রী সোহেল। সোহেল জানান, শাহজালালের রানওয়ে থেকে উড্ডয়নের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে এই ঘটনা ঘটে। বিমানের ভেতরে অসংখ্য মশা ঢুকে পড়ায় যাত্রীরা চেঁচামেচি ও হট্টগোল শুরু করেন। এক ঘণ্টার মধ্যে বিমানের ভেতর ও রানওয়েতে মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আজিজ বলেছেন, ‘মশার কারণে আমাদের ফ্লাইটটি যথাসময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। বে এরিয়া থেকে যাত্রী ওঠানোর সময় উড়োজাহাজে মশা ঢুকে পড়ে। যাত্রীরা মশার উৎপাতে বিরক্ত হয়ে যান। বাধ্য হয়ে মশা নিধন করে পুনরায় ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়।’

মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এই কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘তখন রাতে বিমানবন্দরে যারা দায়িত্বরত ছিলেন তাদের কাছে ফ্লাইট বিলম্বের তথ্য জানিয়েছি। তবে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন না। আমরা বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেও জানাবো।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মশার উৎপাতের কারণে ফ্লাইট আটকে যাওয়ার ঘটনা বিশ্বে এটিই হয়তো প্রথম। তবে শাহজালালে মশার উৎপাত নতুন নয়। ফ্লাইটে ওঠার পর যাত্রীরা মশার কামড়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রায়ই। বিদেশিরাও বিরক্তি প্রকাশ করে থাকেন। বিমানবন্দরের ভেতরে-বাইরে তো কথাই নেই। লাগেজ বেল্টে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তির সাথে যোগ হয়েছে মশার কামড়।

বিমানবন্দরের দুরাবস্থার কথা স্বীকার করে আক্ষেপের সঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, এমন ঘটনায় দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। কিন্তু চেষ্টা করেও মশার কাছে আমাদের হার মানতে হচ্ছে।