বাইরে কী ঘটছে কিংবা ঘটেনি, তা নিয়ে ভাবার সময় নেই বীণা চৌধুরীর। যুক্তরাষ্ট্রের পার্ক রিজে তার বাসা থেকে ব্যাগভর্তি বাঙালি খাবার নিয়ে তাকে নার্সিং সেন্টারে যেতে হবে। গত কয়েক বছর ধরে তার অসুস্থ মা ওই নার্সিং হোমে থাকছেন।
বীণা চৌধুরীর ভাগনে সাকিব আহমেদ বলেন, যদি ১০ ইঞ্চি বরফ জমেও যায়, তবে সেটি তার কাছে কোনো ব্যাপার ছিল না। টর্নেডোতে সব কিছু দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গেলেও তাকে তার মায়ের জন্য খাবার নিয়ে যেতে হতো। কারণ ওই নার্সিং হোমের আর কারও হাতের খাবার তার মা খেতেন না। বীণা চৌধুরী এলেই কেবল তার মা খেতেন।-খবর শিকাগো ট্রিবিউন।
প্রতিদিনের মতো বুধবারও বীণা চৌধুরী তার মায়ের জন্য রাতের খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন। ব্যালার্ড রেসপাইরেটরি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে মাকে খাইয়ে ফেরার পথে রাস্তা পার হচ্ছিলেন, তখন একটি গাড়ি এসে তাকে ধাক্কা দেয় এবং তিনি আহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
পার্ক রিজ পুলিশের প্রধান সহকারী ডুয়ানো মিলামা বলেন, বীণা চৌধুরী যে স্থান দিয়ে হাঁটছিলেন তা পথচারীদের জন্য নয়। মারাত্মক আহত বীণাকে পুলিশ উদ্ধার করে অ্যাডভোকেট লুথারেন জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু প্রচুর রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানান।
স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হবার পর বীণা চৌধুরী সাত বছর ধরে শিকাগোতে তার বড় বোনের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। এক বছর বয়সে একমাত্র ছেলে মারা যাওয়ার পর তিনি তার অসুস্থ মায়ের সেবায় দিন কাটাচ্ছিলেন। ৪২ বছর বয়সী বীণা চৌধুরীর বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জে।





