খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা ইসির কাছে তা জানতে চেয়েছে সফররত ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টারি (ইপি) ডেলিগেশন।

বুধবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা সঙ্গে এক বৈঠকে ইপি ডেলিগেশন বিষয়টি জানতে চায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ কথা জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, দণ্ডিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ নিয়ে বৈঠকে কোনো কথা হয়েছে কি না?

জবাবে কমিশন সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে (ইপি’র) একজন জানতে চেয়েছিলেন। সিইসি তাদেরকে বলেছেন- এটি আদালতের বিষয়।’

সিইসি বলেন, ‘আদালত যদি অ্যালাও (অনুমোদন) করেন, তাহলে ইসির কিছু করার নেই। আর যদি অ্যালাও না-ও করেন, তাহলেও ইসির কোনো ভূমিকা থাকবে না। কমিশন সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সবকিছু করবে।’

বৈঠকে জিম ল্যামবার্ডের নেতৃত্বে আট সদস্যের ইপি ডেলিগেশন উপস্থিত ছিলেন। কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও যুগ্ম-সচিব (চলতি দায়িত্ব) এসএম আসাদুজ্জামান এসময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এছাড়া মামলার অপর আসামি বিএনপি প্রধানের ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তাদেরকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দি হিসেবে তিনি সেখানেই আছেন। দুই বছরের বেশি সাজা হওয়ায় তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।