ডায়াবেটিস কিন্তু এখন একটা মহামারীর আকার ধারণ করেছে। প্রতিবছর এই ডায়াবেটিস এর কারণে সাঁরা পৃথিবীতে কত কত মানুষ মারা যাচ্ছে তার কোন হিসাব নেই।
ডায়াবেটিস প্রধানত ২ ধরনের হয়-
• ধরন-১ ডায়াবেটিস, এটি সাধারনত শিশুকালেই লক্ষণ দেখে নির্ণয় করা যায়। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে ২০ বছর বয়স পার হবার পর ধরা পড়ে। এই ধরনটিতে শরীরে খুবই কম ইন্সুলিন তৈরী হয় অথবা একদমই তৈরী হয় না। ফলে প্রতিদিন ইন্সুলিন ইনজেক্সন নিতে হয়। ডায়াবেটিসে আত্রান্তদের ৫%-১০% কে এই ধরনটিতে ভুগতে দেখা যায়। এর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে জেনেটিক, ভাইরাস এবং সতোপ্রতিষেধক সমস্যা বা জটিলতা হয়ত এ ব্যপারে কিছুটা ভূমিকা পালন করে।
• ধরন-২ ডায়াবেটিস, এটি ধরন-১ অপেক্ষা অনেক বেশী সাধারণ প্রকৃতির। বেশীর ভাগ ডায়াবেটিক রোগী এর অন্তর্ভূক্ত। এটি সাধারনত পূর্ণ বয়সেই দেখা যায়। তবে যুবক-যুবতীরাও দিন দিন অনেক বেশী হারে এর অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে। ডায়াবেটিসে আত্রান্তদের মধ্যে ৯০% – ৯৫% কে এই ধরনটিতে ভুগতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে ‘প্যাংক্রিয়াস’ রক্তের গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য পর্যাপ্ত ইন্সুলিন তৈরী করতে পারেনা এবং প্রায়শই ইন্সুলিনের প্রতি দৈহিক প্রতিক্রিয়া ঠিকমত হয় না। অনেকে আক্রান্ত হয়েও অনেকদিন যাবত বুঝতেই পারেন না যে তারা এ ধরনের ডায়াবেটিসে ভুগছেন। অথচ এটি কিন্তু একটি জটিল অবস্থা। যত দিন যাচ্ছে, অতিশয় স্থুলতা ও ব্যায়াম বিমুখতা- মূলত এ দু’টি কারণে এই ধরনের ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই।
এছাড়াও রয়েছে-
• গর্ভধারণকালীন ডায়াবেটিস- এটি গর্ভাবস্থায় দেখা যায়। এক্ষেত্রে গর্ভবতীর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা গর্ভকালীন যে কোন সময়ে বৃদ্ধি পায়। অথচ গর্ভবতী হওয়ার পূর্বে তাদের ডায়াবেটিস ছিল না। সেই সমস্ত স্ত্রীলোক সাধারনত এই ডায়াবেটিসে ভোগেন যারা স্থুলকায় এবং যাদের পরিবারের অন্যান্য (রক্ত-সম্পর্কীয়) সদস্যরা ডায়াবেটিসে ভুগছেন। গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হলে মায়ের রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা অবশ্যই স্বাভাবিক রাখতে হবে। তা না হলে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে। যারা গর্ভধারনকালীন ডায়াবেটিসে ভোগেন তাদের মধ্যে ৫%-১০% স্ত্রীলোককে পরবর্তীতে ‘ধরন-২ ডায়াবেটিসে’ ভুগতে দেখা যায় এবং এক্ষেত্রে ২০%-৫০% এর ৫-১০ বছরের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
• অন্য নির্দিষ্ট ধরনের ডায়াবেটিস- এটি বিভিন্ন কারণে হয়, যেমন- জিনগত অবস্থা, শল্যচিকিৎসা, ওষুধ, পুষ্টিহীনতা, ইনফেক্সন ও অন্যান্য অসুস্থতা। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের মধ্যে ১%-৫% এই ধরনটিতে ভোগেন।
‘ধরন-১ ডায়াবেটিসে’-এর কিছু উপসর্গ-
• অবসাদ, পিপাসা বৃদ্ধি পাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, বিবমিষা, বমি হওয়া, ক্ষুধা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া।
‘ধরন-১ ডায়াবেটিস’ রোগীদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো খুব কম সময়ের মধ্যেই প্রকাশ পেয়ে থাকে এবং জরুরী অবস্থার মধ্য দিয়ে এটি নির্ণীত হয়।
‘ধরন-২ ডায়াবেটিসে’-এর কিছু উপসর্গ-
• ঝাপসা বা অস্পষ্ট দৃষ্টি, অবসাদ, ক্ষুধা বৃদ্ধি পাওয়া, পিপাসা বৃদ্ধি পাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া।
*যেহেতু ধরন-২ ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়, তাই কিছু কিছু ব্যক্তির রক্তে উচ্চ মাত্রায় গ্লুকোজ থাকা সত্ত্বেও তারা এই উপসর্গগুলো আদৌ বুঝতে পারেনা।
‘ধরন-২ ডায়াবেটিস’ -হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে-
১/ বয়স ৪৫ বছরের বেশী হলে,
২/ পিতামাতার কোন একজন, ভাই অথবা বোন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে,
৩/ গর্ভধারনকালীন ডায়াবেটিস হলে অথবা ৯ পাউন্ড অপেক্ষাবেশী ওজনের বচ্চা প্রসব করলে,
৪/ হৃদরোগ থাকলে,
৫/ রক্তে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল বা চর্বি থাকলে,
৬/ অতিশয় স্থুলতা থাকলে,
৭/ পর্যাপ্ত ব্যায়াম না করলে,
৮/ মহিলাদের পলিসিস্টিক ওভারি ডিসিজ অর্থাৎ ডিম্বাশয়ে টিউমার হলে,
৯/ রক্ত পরীক্ষায় গ্লুকোজ বা শর্করার সহনশীলতা জনিত বৈকল্য (IGT) থাকলে,
১০/ কোন কোন বিশেষ সংস্কৃতির অধিকারী জনগোষ্ঠি।
ডায়াবেটিস সনাক্তকরণ পরীক্ষা ও মূল্যমান-
• প্রাথমিকভাবে প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে তাতে গ্লুকোজ বা শর্করা এবং চর্বি ভেঙ্গে যাওয়ায় সৃষ্ট কিটোন বডির উপস্থিতি নির্ণয় করা যায়। তবে ডায়াবেটিস সনাক্তকরণের জন্য প্রস্রাব পরীক্ষার উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করা উচিত নয়।
ডায়াবেটিস সনাক্তকরণের জন্য রক্তের গ্লুকোজ বা শর্করা নির্ণয়ের কিছু পরীক্ষা ও মাত্রা-
• অভুক্ত অবস্থায় রক্তের গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা (FBS) -> যদি পর পর দু’বার ১২৬ মিলিগ্রাম/ডি.এল অর্থাৎ ৭.০মিলি.মোল/এল বা তা অপেক্ষা বেশী হয় তবে ডায়াবেটিস হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়। এই মাত্রা ১০০ থেকে ১২৫ মিলিগ্রাম/ডি.এল অর্থাৎ ৫.৬ থেকে ৬.৯ মিলি. মোল/এল পর্যন্ত হলে তাকে (IFG- impaired fasting glucose) উপবাসকালীন হানিকর শর্করা অর্থাৎ ডায়াবেটিস হওয়ার পূর্ব-অবস্থা হিসেবে ধরে নেয়া হয়। এই মাত্রাগুলোকে ধরন-২ ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার বিপদ সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
• মুখে খাওয়া গ্লুকোজের সহনশীলতা পরীক্ষা (GTT) -> মুখে (৭৫ গ্রাম) গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘন্টা পর রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা ২০০ মিলিগ্রাম/ডি.এল অর্থাৎ ১১.১মিলি. মোল/এল বা তা অপেক্ষা বেশী হলে তাকে ডায়াবেটিস ধরা হয়। এই পরীক্ষা ‘ধরন-২ ডায়বেটিস’ সনাক্ত করার জন্য বেশী ব্যবহৃত হয়। এই মাত্রা ১৪০ মিলিগ্রাম/ডি.এল থেকে ১৯৯ মিলিগ্রাম/ডি.এল অর্থাৎ ৭.৮ থেকে ১১ মিলি. মোল/এল পর্যন্ত হলে এই অবস্থাকে Impaired glucose tolerance (IGT) হিসেবে ধরা হয় এবং যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার ইংগিত বহন করে।
• ভুক্ত অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা (RBS)-> ২০০মিলিগ্রাম/ডি.এল বা ১১.১মিলি.মোল/এল বা তা অপেক্ষা বেশী হলে এবং সেই সঙ্গে ডায়াবেটিসের উপসর্গ যেমন অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অবসাদ ইত্যাদি থাকলে ডায়াবেটিস হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে রোগ সনাক্তকরণের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ‘মুখে খাওয়া গ্লুকোজের সহনশীলতা পরীক্ষা’ অর্থাৎ (GTT) অবশ্যই করে নিতে হবে।
• উপরের পরীক্ষাগুলো ছাড়াও প্রতি ৩-৬ মাসের মধ্যে অন্তত একবার হিমগ্লোবিনের A1c (HbA1c) পরীক্ষা করে দেখা উচিত। এই HbA1c নিরূপণের মাধ্যমে পূর্বের ২-৩ মাস সময়ের মধ্যে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কেমন ছিল তা অনুমান করা যায়। ডায়াবেটিসের চিকিৎসার ফলাফল বোঝার জন্য যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারো A1c এর মাত্রা ৫ পর্যন্ত স্বাভাবিক ধরা হয়। ৫.৭ থেকে ৬.৪ পর্যন্ত হলে তাকে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ হবার জন্য ঝুকিপূর্ণ হিসেবে ধরে নেয়া হয়। আর ৬.৫ বা তা অপেক্ষা বেশি হলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বলে ধরে নেয়া হয়।
ডায়াবেটিসের জরুরী বা তাৎক্ষণিক জটিলতাসমূহ-
১). ডায়বেটিক হাইপারগ্লাইসেমিক হাইপার- অসমোলার কোমা
২). ডায়বেটিক কেটোএসিডোসিস
ডায়বেটিসের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতাসমূহ-
১). এ্যথেরোস্ক্লেরোসিস-> রক্তনালীতে চর্বি জমে ছিদ্রপথ সরু হয়ে যাওয়া
২). করোনারি আর্টারি ডিজিস-> হৃদপিন্ডের ধমনীর রোগ।
৩). ডায়বেটিক নেফরোপ্যাথি-> ডায়বেটিস জনিত কিডনী রোগ।
৪). ডায়বেটিক নিউরোপ্যাথি-> ডায়বেটিস জনিত ্লায়ূ-রোগ।
৫). ডায়বেটিক রেটিনোপ্যাথি-> ডায়বেটিক জনিত চোখের
৬). ইরেক্সন প্রব্লেম-> পুরুষের লিঙ্গোত্থান সমস্যা।
৭). হাইপারলিপিডিমিয়া-> রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যাওয়া।
৮). হাইপরটেনশন-> উচ্চ রক্তচাপ।
৯). ইনফেক্সন অফ স্কিন এন্ড ইউরিনারী ট্রাক্ট-> চর্ম এবং প্রস্রাবের নলীর ইনফেক্সন।
১০). পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিস-> প্রান্তিক রক্তনালীর রোগ।
১১). স্ট্রোক-> মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বা ইনফার্কশন জনিত সমস্যা।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনেক বেড়ে যাওয়া যেমন ভাল নয়, তেমনি হঠাৎ করে যেন খুব বেশি কমে না যায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কারন উভয় ক্ষেত্রেই জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে যারা ইনসুলিন নিচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে বেশি খেয়াল রাখতে হবে। এসব ক্ষেত্রে কি কি উপসর্গ হতে পারে তা জানা থাকলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া সহজ হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ার আগে রোগীকে হাসপাতালে নিলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব বেড়ে গেলে (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) যেসব উপসর্গ হতে পারে সেগুলো হল-
পেটে ব্যথা, ঘন ঘন দীর্ঘ-শ্বাস নেয়া, পিপাসা ও প্রস্রাব বৃদ্ধি পাওয়া, অবসাদ, জ্ঞান হারিয়ে ফেলা, প্রশ্বাসে মিষ্টি গন্ধ।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব কমে গেলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) যেসব উপসর্গ হতে পারে সেগুলো হল-
বিভ্রান্তি, শরীরের প্রত্যঙ্গগুলোর ভয়ানক আলোড়ন অথবা অচৈতন্য, মাথা ঘোরা, দ্বৈত-দৃষ্টি, ঝিমানো বা নিদ্রালুভাব, মাথাব্যথা, দূর্বলতা, সমঝতার অভাব
রক্তে গ্লুকোজ স্বল্পতা জনিত আচ্ছন্নতা বা প্রচন্ড ইন্সুলিন প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে গ্লুকোজ, চিনি বা হাতের কাছে বর্তমান মিষ্টি জাতিয় খাবার খাওয়াতে হবে অথবা গ্লুকোজ-ইনজেক্সন দিতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।
ডায়াবেটিসের চিকিৎসা-
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে উপসর্গ মুক্ত থেকে সুস্থ্যভাবে জীবন যাপনের জন্য সঠিক সময়ে সঠিকভাবে চিকিৎসা নিতে হবে। তাহলে ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কীত জটিলতা যেমন- অন্ধত্ব, হৃদরোগ, কিডণী রোগ, পচন জনিত অঙ্গহানী ইত্যাদি থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এটা মনে রাখতে হবে যে ডায়বেটিস নির্মূল করা যায় না। নিয়মিত ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, বিশ্রাম ও প্রয়োজনে ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।
• পথ্য- ডায়াবেটিক রোগীরা খাদ্যের সাথে কি পরিমাণ চর্বি, আমিষ ও শর্করা(Carbohydrates) গ্রহণ করবেন তা নিকটতম ডায়াবেটিক সেন্টারে গিয়ে অথবা ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান এর নিকট থেকে জেনে নিতে হবে। প্রয়োজনে পথ্যবিশারদের নিকটে গিয়ে পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। তবে একজন ডায়াবেটিক রোগির প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কার্বহাইড্রেট বা শর্করা ৫০-৬০% (এর মধ্যে আঁশ যুক্ত খাবার ২০-৩৫ গ্রাম), ফ্যাট বা চর্বি ৩০% এবং প্রোটিন বা আমিষ ১০-২০% থাকা প্রয়োজন।
ধরন-২ ডায়াবেটিস- এ আক্রান্তদের সুষম ও কম চর্বিযুক্ত খাদ্য সঠিক পরিমাণে সময়মত গ্রহণ করা উচিত।
• ব্যায়াম- ডায়াবেটিক রোগীদের প্রতিদিন ব্যায়াম করা উচিত। এটা একদিকে যেমন রক্তের গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে, তেমনি ওজন কমাতে ও উচ্চ-রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না তাদের তুলনায় যারা করেন তারা অনেক কম হারে হার্ট-এ্যটাক ও স্ট্রোকের শিকার হন।





