ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর লন্ডন থেকেই দলের সমন্বয়সহ যাবতীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তারেক রহমান। এমনটা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপির নেতারা। অন্যদিকে, দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালে লন্ডন যাওয়ার পর আর দেশে ফেরা হয়নি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের। মায়ের সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা তাও লন্ডনেই। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়া জেলে যাওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে তারেক রহমান। অবশেষে জানা গেল খালেদা জিয়ার নির্দেশ মতো তারেক রহমান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য বিএনপি।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, খালেদা জিয়ার বন্দির পর মা হিসেবে অনেক কিছুই করতে পারতেন তারেক রহমান। কিন্তু খালেদা জিয়া কাউকে উচ্ছৃঙ্খলতা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে দেশে ফেরত পাঠাতে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে জোর লবিং চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক। তিনি বলেন, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। অনেক সংসদ সদস্যের কাছেও আমরা বিষয়টি জানিয়েছি।

১৯৮৪ সালে খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন হওয়ার পর কেউই দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হননি। এই প্রথম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়া তারেক রহমান। লন্ডনে চিকিৎসাধীন তারেক রহমান বাংলাদেশের আইনের চোখে একজন পলাতক আসামি। আর এ অবস্থার মধ্যেই তিনি বিএনপির ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’-এর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী চেয়ারপারসন। আর গঠনতন্ত্রের ৮-এর (গ) ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের ওপর সব দায়িত্ব বর্তায়। গ-এর (২) উপধারায় বলা হয়েছে—‘চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।’ এই বিধান অনুযায়ী খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তারেক রহমানই এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

উল্লেখ্য,জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৫বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন মামলার বিচারক ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান। মামলার অন্যান্য ৫ আসামীকেও ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজা প্রাপ্ত অন্য আসামীরা হলেন- সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান। মামলায় শুরু থেকে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

রায়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেকের ২কোটি ১০লক্ষ ৭১ হাজার টাকা সমপরিমান জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।