জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার খবরটিকে কীভাবে উপস্থাপন করেছে বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো? গণমাধ্যমের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং গণমাধ্যম বিশ্লেষক হিসেবে নিজের ক্ষুধা মেটানোর জন্যই জানতে চেয়েছিলাম। সারসংক্ষেপ এখানে আপনাদের জন্য

১. পাশের দেশ পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন-এর অনলাইন সংস্করণে ওয়ার্ল্ড বা বিশ্ব সংবাদের অংশ হিসেবে সেটিকে স্থান দেয়া হয়েছে। আর সংবাদের উপস্থাপনের ধরণে, বিশেষত শিরোনাম কোনো দিকের প্রতি হেলে পড়া নয়। বরং ফ্যাক্চুয়াল শিরোনাম।

২. ভারতের বড় বড় পত্রিকা হিন্দুস্থান টাইমস, দি হিন্দুর মতন কাগজের অনলাইন সংস্করণে সংবাদটি চোখে পড়েনি। তবে, আনন্দবাজার পত্রিকা সংবাদটিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। বিশ্ব সংবাদ বা এমন কোনো লেবেল এঁটে সেই ফোল্ডারের ভেতরে নয়, বরং তাদের অনলাইন সংস্করণের হোম পেজেই খবরটি রয়েছে। এছাড়া ভারতের অন্যান্য তুলনামূলকভাবে কম অভিঘাত সৃষ্টিকারী কাগজে সংবাদটি বেশ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে।

৩. আল জাজিরায় সংবাদটি পেতে খানিক বেগ পেতে হয়। তাদের নিউজে ঢুকে সেখান থেকে এশিয়া অংশে ঢুকলে তারপর দেখা যায় ওই পাতার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ খবর হিসবে এটিকে প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।

৪. কিন্তু সিএনএন-এর অনলাইনের এমনকি এশিয়া অংশেও এই খবরটির উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

৫. বিবিসির বিশ্ব সংবাদের এশিয়া অংশে প্রধান শিরোনাম হিসেবে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরেই রাখা হয়েছিল এই সংবাদকে। কিন্তু বিবিসির শিরোনামে ক্ল্যাশ বা সংঘর্ষকে যেভাবে ফোকাস করা হলো সেটি একটু অতিরিক্ত মনে হয়েছে। রায়ের দিন বিচ্ছিন্ন দু-চারটা সংঘর্ষ হয়েছে বটে, কিন্তু তা একেবারে শিরোনামের প্রথম অংশ দখল করে বসার মতন গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং রায়ের দিনে যে ‘নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা’ ‘থমথমে নগরী’ ‘জনশূন্য পথঘাট’ এই বাস্তবতার মাত্রা ক্ল্যাশ বা সংঘর্ষের বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। তাই, শিরোনাম বিবেচনায় বরং আনন্দ বাজারেরটা অধিক গ্রহণযোগ্য লেগেছে।

আনন্দ বাজার কারাদণ্ডের কথাও বলেছে, ঢাকায় যে উত্তাপ আছে সেটিও বলেছে। উত্তাপ একটা নোটেবল বিষয় ছিল। তাই সেটি শিরোনামে হাজির। কিন্তু উত্তাপের মাত্রা বা Degree of violence and clash যেহেতু কালকের অপরাপর অনুসঙ্গকে ছাড়িয়ে যেত পারেনি তাই তারা এটিকে একেবারে শিরোনামের শুরুতে না রাখার বিষয়টিকে আমার কাছে যৌক্তিক অবস্থান মনে হয়েছে।

আমি অনলাইনের খবরগুলো দেখেছি মাঝরাতে। তখন খালেদা জিয়ার খবরটি যেই পাতায় যেই ট্রিটমেন্ট পেয়েছে তার ভিত্তিতেই আমি এই পর্যবেক্ষণ লিখছি। তার আগের ট্রিটমেন্ট সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল নই। কিছু স্ক্রিনশট যোগ করা হলো। নিজেই দেখতে পারেন।

আফরোজা সোমা শিক্ষক, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ