ফ্রান্স থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ কাসেম ।

রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ নেতার কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এম এ কাসেম ও তার সন্তান দ্বয়, মেয়ে লাবিনা কাশেম ও ছেলে সাদমান কাসেম। সাক্ষাতের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন- কাশেম বউ কই, বউকে আনো নাই, পরে কাসেম তার সদ্য প্রয়াত স্ত্রীর সংবাদটি প্রধানমন্ত্রীকে শুনান।

তার সদ্য প্রয়াত স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে প্রিয় নেত্রী দুঃখ ভারাক্লান্ত হৃদয়ে বললেন তোমরা আমাকে একটিবারও বললে না!
একজন মা ও বোন তার আপনজনকে যতটা ভালবাসেন মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার কর্মীদের সেই মমত্ববোধ ও ভালবাসায় আবদ্ধ করে রেখেছেন। তাইতো তার কর্মী ভাইয়েরা সেই ৮১ সালের পর থেকে বুক দিয়ে আগলিয়ে রেখেছেন তাদের প্রিয় হাসু আপাকে।

যার প্রমাণ ২০০৪ সালে ২১ আগষ্ট তৎকালীন বিএনপির সরকারের মদদে জঙ্গীদের গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা মানব ঢাল তৈরি করে বাংলার মানুষের, আশা ভরসার শেষ আশ্রয়স্হল জননেত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেছিলেন।তিনি কর্মীদেরও কেমন ভালবাসেন তার প্রমাণ এম কাশেমের মত প্রবাসের একজন নেতাকে দেখে পরম মমতায় বলে উঠেন- “ও-আমার কাসেম”। পরম আদরে ডেকে নিয়ে কুশলাদি জানতে চান।

উল্লেখ্য, এম এ কাসেম ৮০ দশকের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সংগ্রামী ছাত্রনেতা। ফ্রান্স আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি। নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার হাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা ফ্রান্স প্রবাসী এম এ কাসেম ও তার স্ত্রী আ্যডভোকেট জান্নাত রেহেনা মনি জানুয়ারীর ৩ তারিখ দেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ২২ জানুয়ারি সেনাকুঞ্জে একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। ২৪ জানুয়ারি তার ফ্রান্স প্রবাসী ছেলে মেয়েরা দেশে গেলে, ২৫ জানুয়ারি বাদ জোহর জানাজার নামাজ শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক মেয়ে, এক ছেলেসহ বহু গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯২ সালে এম এ কাসেম ও প্রয়াত জান্নাত রেহেনা মনির বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কাশেম ও তার স্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তার স্ত্রীর অকাল মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।