দাবি আদায়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারকে চাপ দিয়ে কোনো দাবি আদায় করা যাবে না।

রোববার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিক্ষা সমাবেশে’ প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এটুকু আমি বলব, চাপ দিয়ে কিন্তু কেউ কিছু আদায় করতে পারবে না।

“কেউ যদি মনে করেন, সরকারের এটা শেষ বছর.. অমনি দাবি করলেই আমরা সব শুনে ফেলব.. আমি কিন্তু ক্ষমতার পরোয়া করি না। ক্ষমতায় থাকি, না থাকি; আমার কিন্তু আসে যায় না।”

সম্প্রতি এমপিওভুক্তির দাবিতে ছয়দিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন চালিয়ে আসার পর বেসরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

সবশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে সরকার। এরপর থেকে এমপিওভুক্তি বন্ধ আছে।

রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,“কিছু দিলেই, আরো দাও, আরো দাও করলে বললাম আমরা দিতে অপরাগ হব।”

সরকারের তার পরিকল্পনার বাইরে বেরিয়ে কিছু করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন,“আমাদের একটা বাজেট নিয়ে, পরিকল্পিতভাবে চলতে হয়। সেটা মাথায় রাখতে হবে; কতটুকু আমরা করতে পারি।”

“কোথায় কোনটা সরকারি করতে হবে, কোনটা করতে হবে না, কোন নীতিমালার ভিত্তিতে করতে হবে; সেটা তো একটা নীতিমালার ভিত্তিতে করতে হবে। যখন তখন যে কেউ দাবি করলে সেটা তো পূরণ করা সম্ভব নয়। এটা তো সকলকে অনুধাবন করতে হবে, বুঝতে হবে।”
শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সেবা বাড়িয়ে যাচ্ছি। আমরা কখনো কাউকে বঞ্চিত করছি না।”

শিক্ষকদের ‘সর্বাত্মক সহযোগিতা’ দিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “তারপরও আমরা সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষাকে আমরা সব সময় গুরুত্ব দেই।

“এটুকু ভরসা রাখতে হবে যে, আওয়ামী লীগ যতক্ষণ ক্ষমতায় আছে, কাউকে বঞ্চিত করে নাই, বঞ্চিত করবে না।”

শিক্ষকদের মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,“কী ধরনের মানুষ আপনারা তৈরি করে দিয়ে গেলেন ? আপনাদের কাছে যারা শিক্ষা নিচ্ছে; তারা দেশকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে; সেটাই হচ্ছে বড় কথা। আপনাদের ওপর এই জাতির ভবিষ্যত নির্ভর করে।”

শিক্ষার মান নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের কথার জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানটা কী ভাবে নির্ধারণ করবেন ? শিক্ষার মান উন্নয়ন এটা একটা ধারাবাহিক বিষয়। আজকে যেটা মনে হবে আধুনিক, কালকে সেটা পুরনো হয়ে যাবে।

“শিক্ষা যেহেতু একটা ধারাবাহিক বিষয়, কাজেই সময়ের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার বিষয় বাছাই করতে হবে, নির্দিষ্ট করতে হবে এবং শিক্ষা প্রদান করতে হবে। আজকে যেটা উন্নত মনে হচ্ছে, আধুনিক ও সময়োচিত মনে হচ্ছে, সেটা আগামীতে কয়েক বছরের মধ্যে পুরাতন হয়ে গেল। আবার নতুন ভাবে, নতুন কিছু আবিস্কার হল.. তার সঙ্গেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণের ওপরো গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।