গ্রাভিওলা একটি ফলের নাম। এই ফলটি পৃথিবীকে আশ্চর্য করে দিয়েছে। ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে এই ফলটি কেমোথেরাপির চেয়ে হাজারগুণ বেশী কাজ করে। এবং এটিতে শরীরের শক্তিও জোগাড় হয়।গ্রাভিওলা ফলের স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে বহু প্রবন্ধ, নিবন্ধ লেখা হচ্ছে।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাভিওলা গাছ দক্ষিণ আমেরিকা, বিশেষ করে, আমাজান নদী অববাহিকায় দেখা যায়। এটি ১৫ থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। আর এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান।

গ্রাভিওলা ফলে রয়েছে বেশ উপকারিতা। তবে এর বাকল ও পাতায় রয়েছে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য উপকারিতা। হাজার হাজার বছর ধরে লিভার সমস্যা, বাত থেকে প্যারাসাইট এর মতো রোগ নিরাময়ে চা হিসেবে গ্রাভিওলার পাতা ও বাকল খেয়ে আসছে আমাজানের বাসিন্দারা।

গ্রাভিওলা আম্লিক ফল হিসেবেও পরিচিত। বলা হচ্ছে- ক্যান্সার সেলের মৃত্যু ঘটাতে কেমোথেরাপির চেয়ে এটি ১০ হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। ক্যান্সার বর্তমান যুগে সবচেয়ে ঘাতক রোগ।

তবে এ নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তারা গ্রাভিওলার অন্য উপকারিতার উপর জোর দিয়েছেন।

তারা বলছেন, গ্রাভিওলা গোটা ইম্মুন সিস্টেমকে সমর্থন করে। শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। অল্প বয়সে বার্ধক্য প্রতিরোধ করে। কিন্তু ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে গ্রাভিওলার প্রভাব রয়েছে কি না তা এখনো প্রমাণিত নয়।

শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে রক্তশূন্যতা হয়। সাধারণত মেয়েরা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন।

রক্তশূন্যতা হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যেমন : শরীরে আয়রনের ঘাটতি, ভিটামিন বি ১২-এর ঘাটতি, ধূমপান, কোনো কারণে অতিরিক্ত রক্তপাত ইতাদি।

রক্তশূন্যতার লক্ষণ ব্যক্তিভেদে বিভিন্ন রকম হয়। অবসন্নতা, ক্লান্তিভাব, বমি, ঘাম হওয়া, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, ছোট শ্বাস, বেশি ঠান্ডা অনুভব করা ইত্যাদি রক্তশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে।

কিছু খাবার রয়েছে যা রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করে। রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করবে এমন কয়েকটি খাবারের নাম জানিয়েছে লাইফস্টাইল বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।

১. আনার –
আনার আয়রন এবং ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস। এটি দেহে রক্তসঞ্চালের পরিমাণ বাড়ায়। এটি ঝিমুনি ভাব, দুর্বলতা, অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত আনার খেলে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ হয়।

২. টমেটো –
টমেটো ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস। এটি রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধেও সাহায্য করে। দেহের আয়রনকে শোষণ করতে ভিটামিন সি ভালো কাজ করে। প্রতিদিন দুই গ্লাস টমেটোর জুস খাওয়া রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৩. পালং শাক –
পালং শাক রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে খুব উপকারী। এর মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, ই, বি৯, সি। এ ছাড়া রয়েছে আয়রন, আঁশ ও বেটা কেরোটিন। নিয়মিত পালং শাক খেলে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ হয়।

৪. সয়াবিন –
সয়াবিনে রয়েছে উচ্চমাত্রায় আয়রন এবং ভিটামিন। এর মধ্যে থাকা সাইটিক এসিড রক্তস্বল্পতার সঙ্গে লড়াই করে। সয়াবিনের রয়েছে কম পরিমাণ চর্বি ও প্রোটিন। প্রোটিনও এনিমিয়া প্রতিরোধে উপকারী।

৫. লাল মাংস –
লাল মাংসের মধ্যে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন বি। যেমন : গরুর মাংস, খাসির মাংস। এই মাংস রক্তস্বল্পতা দূর করতে এবং শরীরের সব কোষে অক্সিজেন ভালোভাবে সরবরাহ করতে সাহায্য করে।

৬. ডিম –
ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। রক্তস্বল্পতা কমিয়ে শরীরে রক্তের পরিমাণ বাড়াতে ডিম খুব উপকারী। ডিমের কুসুমের মধ্যে রয়েছে আয়রন। এটি শরীরে লোহিত রক্তের পরিমাণ বাড়ায়।