তার জীবন বোধ-দর্শন ও চিন্তাধারা ঠিক অন্য আট-দশজনের মত না। ধর্মীয় চেতনাও প্রবল। সৃষ্টিকর্তার ওপর ধর্মপ্রাণ মাশরাফির আস্থা, বিশ্বাস ও ভক্তিও যথেষ্ঠ।
সে কারণেই বিনয়টা গড়পড়তা অন্য মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। নাম, ডাক, তারকাখ্যাতি আর আকাশছোয়া জনপ্রিয়তা সত্বেও তাই চলাফেরা ও জীবন যাপন নেহায়েত অনাঢ়ম্বর ও চাকচিক্যহীন, সাদামাটা।
আচরণ, কথা বার্তায় যারপরনাই মিশুক মাশরাফির কিছু নিজস্ব দর্শন আছে। তার জীবনবোধটা অন্যরকম। কিছু সংস্কার মানেন নিজের মত করে। যেমন জন্মদিন পালন করা নিয়ে তার একটা নিজস্ব দর্শন আছে। জন্মদিনে আনন্দ, উৎসব হৈ হুল্লোর করা একদমই পছন্দ নয় তার।
ঘটা করে নিজের ও সন্তানদের জন্মদিনও পালন করেন না। বাড়িতে তার নিজের ও দুই সন্তানের জন্মদিনে কেক কাটা, উৎসব-আনন্দ করা এবং অনুষ্ঠান আয়োজন করেন না। বরং সেই দিনে সৃষ্টি কর্তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করাকেই তার কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে হয়।
ধর্ম-কর্মও যতটা সম্ভব নিরবে-নিভৃতে করতে পছন্দ করেন। মাশরাফি ধর্ম-কর্ম কতটা নিরবে করতে চান শুনবেন? তাহলে শুনুন, দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব পবিত্র ওমরাহ করতে যাচ্ছেন। কিন্তু তার ওমরাহ করার খবর সেভাবে জানাজানি হয়নি। কি করে হবে? মাশরাফি একদমই চান না তার ওমরাহ করতে যাবার খবর মিডিয়ায় আসুক।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ওমরাহ করতে যাবার খবর যাতে চাওর না হয় সেজন্য যতটা সম্ভব নিরবে-নিভেৃতে মক্কা যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়ক। কাছের মানুষদের কাছেও তাই বিষয়টি যতটা সম্ভব আড়াল করে রেখেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস।
এমন দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা যার, সেই মাশরাফি ওমরাহ করতে যাবার খবর যতটা সম্ভব আড়াল করে রাখবেন, সেটাই যে স্বাভাবিক।





