‘আল্লাহ আমার দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছে ৷ আজ মনে হচ্ছে আমি জীবন ফিরে পেয়েছি ৷ কিছুদিন আগেও পুলিশের হাতে আটক হওয়া থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছি। এখন বুক ফুলিয়ে দেশে চলে যাবো!’
এভাবে মন প্রফুল্ল করে কথাগুলো বলছিলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. মহিজুল হক (৫০)।প্রায় ৪ বছর আগে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ করে ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়ায় আসেন তিনি ৷ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নির্মাণশিল্পে কাজ করেছেন মহিজুল ৷মালয়েশিয়ায় চলমান অবৈধ অভিবাসী আটক আভিযান থেকে নিজেকে বাঁচাতে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে ৷ কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পারমিট নিতে গিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন মহিজুল ৷
তিনি জানায়, হাইকমিশনের কর্মচারীদের অসদাচরণ তো সহ্য করতে হয়েছে আবার ভোগান্তিরও শিকার হতে হয়েছে। উপযুক্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় তাকে হাইকমিশনের দরজার কড়া নাড়া দিতে হয়েছে ৷
তবে অতিরিক্ত কোন অর্থ ছাড়াই সোনার হরিণ ট্রাভেল পারমিট পেয়ে খুশিতে আত্নহারা তিনি ৷
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান করে মহিজুল বলেন, ‘প্রবাসে আমাদের সব থেকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো আমাদের দেশের দূতাবাস, সেখানে যদি ট্রাভেল পারমিট নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব! অবৈধদের জন্য দেশে নিরাপদে ফিরে যওয়ার নামে কঠোর আইনের কথা বলে এতো ভোগান্তির মুখোমুখি যেন আর কোন বাংলাদেশিকে পড়তে না হয়।’
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার বাসিন্দা মো. মহিজুল হক ৷ স্ত্রী ও দুই ছেলে, দুই মেয়ে সন্তান নিয়ে তাদের সংসার ৷ শারীরিক অসুস্থতার কারণে কোন কাজকর্ম করতে না পারায়, দেশে যাওয়ার খরচের জন্য ধার করে দেশ থেকে অর্থ এনে দেশে ফিরে যাচ্ছেন তিনি ৷
গত মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে প্রবাস কথা’র প্রতিবেদককে মহিজুল বলেন,
‘অর্থ অভাবে পড়ে গত দুই দিন আগে আমার স্ত্রী আমাকে বলে, টাকা পাঠান, না পারলে অন্তত্য বিষ কিনার টাকা পাঠান খেয়ে মরে যাই ৷ এই চার বছর প্রবাস জীবনে আমার কাছে দশটি টাকাও নেই যে নিয়ে যাব ৷’
মহিজুল জানায়, তার বড় ছেলে বর্তমানে কাতার প্রবাসী, তার অবস্থাও তেমন ভালো না ৷ এই চার বছরে চার লাখ টাকা দেশে পাঠিয়েছেন তিনি সাথে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ঋণের ভোজা নিয়েই দেশে ফিরছেন ৷
মালশিয়ায় সারাক্ষণ আটক হওয়ার আতঙ্কে ভালোভাবে কোন কাজকর্ম করতে পারিনি। বাংলাদেশি হওয়া সত্ত্বেও দূতাবাস থেকেও কোন প্রকার সহযোগিতা করে না। বড় কোন সমস্যা নিয়ে দূতাবাসে যাইনি, ছোট একটা কাজ নিয়ে গেছি। তাও কত সমস্যা। যাই হোক এখন দেশে চলে যেতে পারলেই স্বস্তি পাবো।পরিশেষে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মহিজুল।





