মাত্র ৪০ মিনিটে যাওয়া যাবে সাভার থেকে পদ্মা সেতু এলাকার জাজিরা পয়েন্টে। এ জন্য সাভারের বালিয়াপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা পর্যন্ত ৩৯ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়ালসড়ক) নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
মূলত রাজধানী ঢাকার পূর্ব প্রান্তকে পশ্চিম প্রান্তের সঙ্গে যুক্ত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেতু বিভাগ। এই উড়ালসড়কটি ব্যবহার করে ঢাকায় না ঢুকেই সরাসরি সাভার থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা পর্যন্ত যাওয়া যাবে। শুধু তাই নয় এই উড়ালসড়ক দিয়ে খুব সহজেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও প্রবেশ করা যাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন সময়ের দূরত্ব কমবে, সেই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনেও এই উড়াল সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) ও সেতু বিভাগ। সেতু বিভাগের একটি সূত্র জানায়, গত মাসে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। চলতি মাসে প্রকল্পটি ডিপিপি হিসেবে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সেতু বিভাগ।
সরকার এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে। তবে কোনো বিনিয়োগকারী পাওয়া গেলে সেটাকেও কাজে লাগাতে চায় সরকার। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে জাপান সরকার, জাইকা এবং চীনকে বিনিয়োগকারী হিসেবে আসার আহ্বান জানাবে সরকার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেতু সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিষয়টি এখনো পরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছে। তবে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পারলে সাভার থেকে সরাসরি জাজিরা যাওয়া যাবে অল্প সময়ের মধ্যে। এতে মানুষের সময়ের দূরত্ব কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন। সূত্র জানায়, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং সময়মতো বিনিয়োগকারী পাওয়া গেলে আগামী বছরের মাঝামাঝিতেই প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে চায় সরকার।
তবে ২০১৯ সালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কারণে প্রকল্পটির কাজ শুরু হওয়া পিছিয়েও যেতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তখন রাজধানীতে দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ বাড়বে। এই চাপ সামলাতে প্রস্তাবিত নতুন এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা রাজধানীর যানজট নিরসনেও ভূমিকা রাখবে।
প্রস্তাবিত উড়ালসড়কটির রুট : পরিকল্পনা অনুযায়ী সাভার উপজেলার বালিয়াপুর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে মধুমতি মডেল টাউনের কাছে হবে এক্সপ্রেসওয়েটির মূল পয়েন্ট। সেখান থেকে একটি অংশ চলে যাবে সাভার হেমায়েতপুর। অপর অংশটি গিয়ে উঠবে পুরান ঢাকার নিমতলী থেকে কেরানীগঞ্জ-ইকুরিয়া-জাজিরা-ফতুল্লা-হাজীগঞ্জ-বন্দর-মদনপুর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে। মূলত হেমায়েতপুর থেকে সাভার বালিয়াপুর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামে রুটে মিলিত হবে এই এক্সপ্রেসওয়ে। যার মাধ্যমে পদ্মা সেতুর সঙ্গে ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম এই দুই মহাসড়কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে।
এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে পদ্মা সেতু হয়ে আসা যাত্রীরা ঢাকায় প্রবেশ না করেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠতে পারবেন। এ ছাড়া বালিয়াপুর পয়েন্ট থেকে কেরানীগঞ্জ জেল গেট পর্যন্ত আলাদা একটি লিংক রোড নির্মাণও করা হবে।





