সবকিছু আগে থেকেই তৈরি ছিল। বিয়ের অনেক আগে থেকেই শুরু হয় বাড়িতে অতিথি সমাগম। বিয়ের দিন বাড়িতে ব্যস্ততাও তুঙ্গে। সন্ধ্যাবেলায় বাড়ির অতিথিরা খাওয়া-দাওয়াও শুরু করেন।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই ছন্দপতন। আচমকা ভারী বুটের শব্দ বিয়ে বাড়িতে। ভারী বুটওয়ালাদের দেখেই বিয়ের আসর ছেড়ে মাঠ দিয়ে পালালো বর বাবাজি।
শেষ মুহূর্তে এক নাবালিকার বিয়ে রুখল প্রশাসন। বুধবার দুপুরে চাইল্ড লাইন ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বন্ধ হয় বছর সতেরোর এক নাবালিকার বিয়ে।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার রামচন্দ্রখালিতে। জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রী রাম চন্দ্রখালি হাইস্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ত। বাসন্তী থানার জমাদারপাড়ার বাসিন্দা তোয়েব জমাদারের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল দশম শ্রেণির ছাত্রী রুকসানা মিস্ত্রির। পুলিশি অভিযানে আপাতত মুচলেকা দিয়ে বিয়ে বন্ধ করতে বাধ্য হলেন এই নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার দুপুরে নাবালিকা পাত্রী কে বিয়ে করতে এসে কার্যত বিয়ের মঞ্চ থেকেই পালিয়ে গেল পাত্র। তিন বোনের মধ্যে রুকসানাই সবার বড়। বাবা দিন মজুরির কাজ করে কোনওমতে সংসার চালান। সেই কারণেই নাবালিকা হওয়া সত্ত্বেও তাড়াতাড়ি মেয়ের বিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চেয়েছিলেন বাবা। বুধবার দুপুর একটায় ছিল বিয়ের লগ্ন। ঠিক সময়ে হাজিরও হয়ে যায় বরপক্ষ। ততক্ষণে বিয়ে বাড়িতে অতিথিরা খাওয়া দাওয়াও শুরু করেছেন। কিন্তু তাল কাটে কিছুক্ষণ পরে।
গ্রামের বেশকিছু বাসিন্দা নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করার জন্য চাইল্ড লাইনে খবর দেন। খবর পেয়ে চাইল্ড লাইনের সদস্যরা এবং বাসন্তী থানার এসআই সুব্রত উপাধ্যয়ের নেতৃত্বে পুলিশকর্মীরা যৌথ অভিযান চালান নাবালিকার বিয়ে বন্ধর জন্য। পুলিশ ও চাইল্ড লাইনের সদস্যদের দেখতে পেয়ে বর বিয়ের মঞ্চ থেকেই উঠে মাঠের মধ্যে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ও চাইল্ড লাইনের সদস্যরা ছাত্রীর বয়সের প্রমাণপত্র দেখে ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে বলেন নাবালিকা মেয়ের বিয়ে না দিতে। অনেক আলোচনার পরে মুচলেকা দিয়ে নাবালিকা মেয়ের বিয়ে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরা।





