মুন্সীগঞ্জের সদরের পূর্ব শীলমন্দির গ্রামের সৌদি প্রবাসী দীন ইসলাম (৩৫) হত্যার প্রধান আসামি স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন রুনাকে (৩০) গ্রেফতার করেছে মুন্সীগঞ্জ থানা পুলিশ। এই ঘটনায় ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানায় স্ত্রীকে প্রধান আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে তাকে পূর্ব শীলমন্দির গ্রামে নিজ শশুর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে রবিবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শাহবাগ পুলিশের সহায়তায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসলে এলকায় শোকের চায়া নেমে আসে। সকাল ১১ টার দিকে শীল মন্দির স্কুল মাঠে জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হয়।
মামলার বাদি নিহতের চাচা শাহ আলম জানান, দীন ইসলামের সাথে সাবিনার ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের পরিবারে দুই সন্তান আছে। প্রায় এক বছর ধরে সাবিনার সাথে দীন ইসলামের পরিবারের নানা কারণে ঝগড়া চলে আসছিল এবং সাবিনার নিজ বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানার গুনিয়াউক গ্রামে বসবাস করছিল।
১০দিনের ছুটি নিয়ে দীন ইসলাম বাংলাদেশে আসে এবং বুধবার (১০ জানুয়ারি) শশুর বাড়িতে সাবিনাকে আনতে যায়। এ সময় একদিন অতিবাহিত করার পর ১১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাত ২টার দিকে স্ত্রী ও শশুর বাড়ির লোকজন দীন ইসলামের মাথায় গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে সিলেটের হবিগঞ্জে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে রাত ৪টার দিকে ঢামেক হাসপাতাল থেকে দীন ইসলামকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনার পর থেকে শশুর বাড়ির লোকজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ঘটানায় চার জনের নাম উল্লেখ করে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
নাসির নগর থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাদন চৌধুরী জানান, এই ঘটনায় মামলার প্রধান আসামী রুনাকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা পুলিশ আটক করে পুলিশ হেফাজতে রেখেছে। নাসিরনগর থানা পুলিশ রুনাকে নাসিরনগর থানায় আনার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এই ঘটনায় গত ১৩ জানুয়ারি একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মঞ্জুর হোসেন জানান, সোমবার সকালে পূর্ব শীলমান্দি গ্রামের দীন ইসলামের নিজ বাড়ি থেকে প্রধান আসামী রুনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাসিরনগর থানা পুলিশ থানায় আসলে তাদের কাছে আসামীকে হস্তান্তর করা হবে।





