২০১৪ তে হারের বৃত্তে আটকে যাওয়া বাংলাদেশকে জয়ের ধারাতে ফিরিয়েছেন হাথুরুসিংহে। বিশ্বে প্রচার আছে তার অধীনেই বদলে গেল বাংলাদেশ দল। তাকে ছাড়া দল কতটা প্রস্তুত? মাশরাফি অবশ্য তাদের উন্নতির অবদানে হাথুরুর ভূমিকাকে অস্বীকার করলেন না।
কিন্তু একজন ব্যাটসম্যান ৭৬ রানের ইনিংস খেলে ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন। ফিরেই কোচের রোষানলের মুখে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধান কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে পারলে ওই ব্যাটসম্যানকে ড্রেসিংরুম থেকেই যেন বের করে দেন!
আউট হওয়ার ধরণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে, হওয়াটাই নিয়ম। কিন্তু ফিরতেই যখন ব্যাটসম্যানকে উদ্দেশ্য করে ‘বুলশিট’ (আরও কিছু শব্দসহ) বলা হতো, সেটা দেখে পুরো ড্রেসিংরুমের আবহই পাল্টে যেত।
এছাড়া মাঠ ও মাঠের বাইরের কড়া শাসন তো ছিলোই। সব মিলিয়ে চান্দিকা হাতুরুসিংহের ‘শাসনামলে’ বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম ছিলো অস্থির। সিনিয়র-জুনিয়র সব ক্রিকেটার তটস্থ থাকতেন। বেশিরভাগ ক্রিকেটারই কোচের থেকে দূরে দূরে থাকার চেষ্টা করতেন। দরকার না পড়লে সহজে ভিড়তেন না।
সাড়ে তিন বছর পর শেষ হয়েছে হাতুরুসিংহে অধ্যায়। নিজ ইচ্ছাতেই বিদায় নিয়েছেন তিনি। টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের পদ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন। এতে স্বাভাবিক হয়েছে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম। আগের সেই অস্থিরতা এখন আর নেই। এটা আর কারও কথা নয়, বলেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।
ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগেরদিন (রোববার) মিরপুরে মাশরাফি বলেন, ‘মানসিক চাপ সব সময় থাকে। অধিনায়ক হিসেবে এটা থাকবে। এখনো আছে। নিজস্ব চিন্তা ভাবনা থাকবে যে ভিতরে কীভাবে প্রয়োগ করবো। আমার ওই জিনিসগুলো এখনো আছে। তবে ড্রেসিংরুম অনেকটাই নির্ভার। যে প্রেসারটা সব সময় ড্রেসিং রুমে থাকে, সেই প্রেসারটা এখন ফিল করছি না।’
আবার একেবারে চাপহীন ড্রেসিংরুমও চান না বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। চাপ থাকবে, তবে সেটা ইতিবাচক। মাশরাফির মতে, ‘ড্রেসিংরুমে আমি যখন আমার খেলোয়াড়কে রিল্যাক্স দেখি বা দেখব, অধিনায়ক হিসেবে আমারও রিল্যাক্স থাকতে সুবিধা হয়।
অনেকটা রিল্যাক্স মনে হচ্ছে। পাশাপাশি এটা চাই না অনেক বেশি রিল্যাক্স থাকুক। অনেক সময় নার্ভাসনেস থেকে সেরা পারফরম্যান্স বের হয়ে আসে। কিন্তু বেশি রিল্যাক্স থাকলে সেটা হয় না।’ বল হাতে বাংলাদেশের প্রধান শক্তি স্পিন, বিশেষ করে ঘরের মাঠে। রোববারের সংবাদ সম্মেলনে খালেদ মাহমুদ সুজন আবারও সেটা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
তবে মাশরাফি মনে করালেন ঘরের মাঠের গত কয়েক বছরের পারফরম্যান্সের কথা। যেখানে বাংলাদেশের পেসাররাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওয়ানডেতে চারজন পেসার নিয়ে বেশ কয়েকবার মাঠে নামতে দেখা গেছে বাংলাদেশকে। আর তিন পেসার নিয়ে খেলা তো নিয়মেই পরিণত হয়েছে।
এসব মনে করিয়ে দিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘চারজন নিয়ে খেলে সফল হয়েছি। এরপর তিন পেসারের কম নিয়ে খেলিনি। আমাদের পেস বোলারদের ওপর আমরা সব সময় একটা আস্থা রেখেছি। হয়তো অনেক সময় আমরা পেসাররা ডেলিভার করতে পারিনি।
আবার যখন ডেলিভার করতে পেরেছি, সেই ম্যাচগুলো কিন্তু আমরা জিতেছি। আবার যখন পারিনি, আমাদের কারণেও ম্যাচ হেরেছি। আস্থা সব সময় ছিলো, হয়তো ধারাবাহিকতা ছিলো না।’
মাশরাফির বিশ্বাস, এবার ধারাবাহিকতা ফিরবে, ‘পেসারদের ওপর অবশ্যই আস্থা আছে। আশা করছি ধারাবাহিকতাও আগের মতো ফিরে আসবে। যেটা ২০১৫-১৬ সালে বেশিরভাগ সময় ধারাবাহিকভাবে করেছিলাম। এ বছর সব অ্যাওয়ে টুর্নামেন্ট। বিশ্বকাপের কথা ভাবলে, আমাদেরকে ইংল্যান্ডের মতো জায়গায় খেলতে হবে।
সেখানে উইকেট আরো ফ্ল্যাট হবে। আমি মনেকরি তাদের ওপর আস্থা রাখা জরুরি। তাদেরকে শতভাগ ব্যাক করাও জরুরি।’মাশরাফি অবশ্য তাদের উন্নতির অবদানে হাথুরুর ভূমিকাকে অস্বীকার করলেন না।
সেই সঙ্গে নিজ দলের ক্রিকেটারদেরও অবদানের কথা জানিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, ‘দেখেন বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে যারা খেলোয়াড় আছে তারা অনেক বড় মানসিকতা নিয়ে ঘোরে। অন বিহ্যাফ অফ দ্যা প্লেয়ার আমি হাথুরুসিংহকে স্যালুট জানাই। অবশ্যই তার আন্ডারে খেলে আমরা ভালো ফল পেয়েছি।
অবশ্যই ক্রেডিট তাকে দিতে আমাদের বিন্দুমাত্র সংকোচ নেই। আমরা এমন নয় যে তাকে ক্রেডিট দিতে চাই না। আবার আমাদের তামিমের রেকর্ড, মুশফিক ও মোস্তাফিজের রেকর্ড শেষ বছরে যদি দেখেন। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ যখন একশ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তখন আমার কাছে মনে হয়নি কেউ ওখানে গিয়ে তাদেরকে আলাদা করে ধরে খেলিয়ে দিয়ে এসেছে।
সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছে এবং পারফরম্যান্স করেছে। আমি যেটা মনে করি যিনিই কোচ থাকুক তাকে শতভাগ ব্যাক করেছি আমরা খেলোয়াড়রাও। আমাদের বলতে সেটা দ্বিধা নেই। আবার ক্রেডিট ছেলেদের দিতে হবে যেভাবে তারা খেলেছে।’





