বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) পেয়েছেন সদ্য অতিরিক্ত উপ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম।
আজ সোমবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে সাহসিকতা ও সেবার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে এ পদক পরিয়ে দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াও এবার বিপিএম সম্মাননা পেয়েছেন। এবার নিয়ে তিনবার পদক পেয়েছেন তিনি।
এ বছর বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও (বিপিএম সেবা), রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) ও (পিপিএম সেবা) চারটি ক্যটাগরিতে মোট ১৮২ জন পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়া হয়েছে। ৯০ জন পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও রাষ্ট্রপতি চাইলে এর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারেন।
পুরস্কার পাওয়ায় খুশি শেখ নাজমুল। তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘সারা বছর পুলিশ যে কাজ করে তার প্রতিটির তালিকা থাকে। গত বছর আমার নিজের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ছিল। টিমওয়ার্কের মাধ্যমে অনেকগুলো চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি গ্রেপ্তার ও মামলার নিষ্পত্তি করেছি। সব মিলে নিজের ভালো কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি।’
শেখ নাজমুল আলম বলেন, ‘আমার সরাসরি নির্দেশনায় চার কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে। বনানী ধর্ষণের আসামি ধরা, ছোট্ট বাচ্চা উদ্ধার, গুলশানে একটি অজ্ঞাত খুনের ঘটনা ডিটেক্ট করেছি। গত রমজানে যমুনা ফিউচার পার্ক এলাকায় একটা খুনের ঘটনাতেও আমার নির্দেশনায় একটি টিম আসামি গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও জাল টাকা উদ্ধার, বিদেশি মুদ্রা জব্দ, জাল টাকা ও মাদক ব্যবসায়ী আটক এবং প্রশ্ন ফাঁসের হোতাদের গ্রেপ্তার করেছি।’
পদক পাওয়ায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এ পুলিশ কর্তকর্তা বলেন, ‘অবশ্যই ভালো লাগছে। কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পদক। এটা আমার সামনের পথকে আরও প্রশস্ত করবে, কাজের স্পৃহা বাড়িয়ে দেবে।’
ভালো কাজ ও ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ নাজমুল আলম এর আগে তিনবার বাহিনীর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) ও বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) অর্জন করেন। ২০০৫ ও ২০১২ সালে পিপিএম এবং ২০১৫ সালে বিপিএম পদক পান তিনি। এবার সব মিলিয়ে চতুর্থবারের মতো পুলিশ পদক পেলেন তিনি, যেটি তার দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএম। এ ছাড়া সম্প্রতি অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডিশনাল ডিআইজি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন তিনি।
১৯৯৮ সালে ১৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে কর্মজীবন শুরু করেন শেখ নাজমুল আলম। ২০১৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর পুলিশে যোগ দেন। পরে ওই বছরের ১ জুন গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনারের দায়িত্ব পান।
প্রায় দুই দশক ধরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন শেখ নাজমুল আলম। তিনি নারায়ণগঞ্জ ও নেত্রকোনায় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সেও (এসএসএফ) দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় তিনি দায়িত্ব পালন করেন ভোলা, পঞ্চগড়, সারদা পুলিশ একাডেমি ও মুন্সীগঞ্জ জেলায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের বিপিএম ও পিপিএম পদক পেয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, জঙ্গিবিরোধী বিশেষ শাখা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান, নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গনেস গোপাল বিশ^াস, তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরুল মোত্তাকিন এবং যাত্রবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান।
পদক তালিকা তৈরির বাছাই কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান ঢাকাটাইমসকে জানান, এবার জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা পদক পেয়েছেন বেশি।





