বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে। মাতৃভূমির টানে তারা মাঝেমধ্যেই মাতৃভূমি অর্থাৎ নিজ দেশে আসেন। আর আসার পরপরই তাদের বিমানবন্দরের কাস্টমসে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

অধিকাংশ প্রবাসীই জানে না বাংলাদেশের বিমানবন্দর দিয়ে তারা কি কি মালামাল আনতে পারবে। আর কাস্টমস কতৃপক্ষকে কোন মালের জন্য কত পরিমান শুল্ক পরিশোধ করতে হবে ।

এক নজরে জানা যাক বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সূত্রে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তথ্য।

০১. মোবাইল ফোন: ২টি মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ বিনা শুল্কেই আনতে পারবেন এছাড়াও প্রথমে ৩টির কথা বললেও এখন ৬ টি পর্যন্ত প্রায় ৩৫% শুল্ক-করাদি পরিশোধ সাপেক্ষে আনতে পারবেন। এর বেশি আনলে কাস্টমস কতৃপক্ষ তা আটক করবে। আটক রশিদ (DM )বুঝে নিবেন। আটককৃত মোবাইল ফোন Adjudication প্রক্রিয়ায় BTRC দপ্তরের ছাড়পত্র উপস্থাপন,শুল্ক-করাদি এবং অর্থদন্ড পরিশোধ সাপেক্ষে ফেরত পেতে পারেন।

০২. ল্যাপটপ: বর্তমানে বিনা শুল্কে আপনি ১টি ল্যাপটপ আনতে পারবেন আর প্রায় ২০% শুল্ক-করাদি পরিশোধ করে ২টি ল্যাপটপ আনতে পারবেন। এর বেশি আনলে কাস্টমস কতৃপক্ষ তা আটক করবে । আটক রশিদ (DM )বুঝে নিবেন। আটককৃত ল্যাপটপ পরবর্তীতে Adjudication প্রক্রিয়ায় CCI & E দপ্তরের ছাড়পত্র উপস্থাপন, শুল্ক-করাদি এবং অর্থদন্ড পরিশোধ সাপেক্ষে ফেরত পেতে পারেন।

০৩. বৈদেশিক মুদ্রা: বিদেশে যাওয়ার সময় পাসপোর্টে এনডোরস [বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত] ব্যাতিত কোন বৈদেশিক মুদ্রা সাথে নিতে পারবেন না। তবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫,০০০ টাকা পাসপোর্টে এনডোরস ছাড়াই সাথে নিতে পারবেন। সাধারণত প্রতি বার ভ্রমণে ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত এনডোরস করিয়ে নেওয়া যায়।এনডোরস ব্যাতিত বৈদেশিক মুদ্রা সাথে নিলে কাস্টমস আটক করবে। আটক রশিদ (DM ) বুঝে নিবেন। আর মুদ্রা পাচার বলে মনে হলে কাস্টমস সরাসরি ফৌজদারি মামলা করার অধিকার রাখে। বিদেশ থেকে ফেরার সময় ইচ্ছেমতো বৈদেশিক মুদ্রা আনতে পারবেন। তবে ৫,০০০ ডলার/সমমান এর বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আনলে তা অবশ্যই কাস্টমস এর নিকট FM J ফরম-এর মাধ্যমে জানাতে হবে।

০৪. স্বর্ণালংকার: এক্ষেত্রে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত (এক প্রকারের অলংকার ১২ টির অধিক হবে না) শুল্কমুক্ত হিসেবে আনতে পারবেন। এর বেশি আনলে অতিরিক্ত প্রতি গ্রাম এর জন্য প্রায় ১,৫০০ টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। যদি কাস্টমস কতৃপক্ষ বাণিজ্যিক পরিমান বলে মনে করে তাহলে তারা পণ্য আটক করবে। আটক রশিদ (DM ) বুঝে নিবেন। আটককৃত স্বর্ণালংকার পরবর্তীতে Adjudication প্রক্রিয়ায় CCI& E দপ্তরের ছাড়পত্র উপস্থাপন, শুল্ক-করাদি এবং অর্থদন্ড পরিশোধ সাপেক্ষে ফেরত পেতে পারেন। আর চোরাচালান বলে মনে হলে কাস্টমস সরাসরি ফৌজদারি মামলা করতে পারবে।

০৫. স্বর্ণ বার: স্বর্ণের বার ১গ্রাম আনলেও আপনাকে শুল্ক-করাদি পরিশোধ করতে হবে। প্রতি ১১.৬৭ গ্রাম এর জন্য ৩,০০০ টাকা পরিশোধযোগ্য। এভাবে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত আনতে পারবেন। এর বেশি আনলে কাস্টমস তা আটক করবে। আটক রশিদ (DM )বুঝে নিবেন। আটককৃত স্বর্ণ বার পরবর্তীতে Adjudication প্রক্রিয়ায় CCI & E দপ্তরের ছাড়পত্র উপস্থাপন, শুল্ক-করাদি এবং অর্থদন্ড পরিশোধ সাপেক্ষে ফেরত পেতে পারেন। আর চোরাচালান বলে মনে হলে কাস্টমস সরাসরি ফৌজদারি মামলা করতে পারবে।

০৬. টেলিভিশন: টেলিভিশনের পরিমাপ ২১” পর্যন্ত হলে তা বিনাশুল্কে আনতে পারবেন। তবে ২২”-২৯” হলে ১০,০০০ টাকা, ৩০”-৩৬” হলে ১৫,০০০ টাকা, ৩৭”-৪২” হলে ২০,০০০ টাকা, ৪৩”-৪৬” হলে ৩০,০০০ টাকা, ৪৭”-৫২” হলে ৫০,০০০ টাকা, ৫৩” এর বেশি হলে ৭০,০০০ টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।

০৭. নতুন শাড়ী/অন্যান্য কাপড়/কসমেটিক্স: ব্যাক্তিগত ব্যবহারের জন্য বেশ কয়েকটি পর্যন্ত বিনাশুল্কে আনতে পারবেন। তবে খুব বেশি হলে প্রায় ১৬০% শুল্ক-করাদি পরিশোধ সাপেক্ষে আনতে পারবেন এবং আতিরিক্ত বেশি আনলে বাণিজ্যিক বিবেচনায় কাস্টমস তা আটক করবে। আটক রশিদ (DM )বুঝে নিবেন। আটককৃত পণ্য পরবর্তীতে Adjudication প্রক্রিয়ায় CCI & E দপ্তরের ছাড়পত্র উপস্থাপন,শুল্ক-করাদি এবং অর্থদন্ড পরিশোধ সাপেক্ষে ফেরত পেতে পারেন।

০৮. ঔষধ: জরুরি বিবেচনায় প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে কিছু ওষুধ সঙ্গে আনতে পারবেন। যদি কোন কারণে কাস্টমস তা বাণিজ্যিক বলে মনে করে তাহলে কাস্টমস তা আটক করবে। আটক রশিদ (DM )বুঝে নিবেন। আটককৃত ঔষধ পরবর্তীতে Adjudication প্রক্রিয়ায় DGDA দপ্তরের ছাড়পত্র উপস্থাপন,শুল্ক-করাদি এবং অর্থদন্ড পরিশোধ সাপেক্ষে ফেরত পেতে পারেন।

০৯. সিগারেট: ২০০ শলাকা অর্থাৎ ১কার্টন পর্যন্ত সিগারেট আপনি বিনাশুল্কে বহন করতে পারবেন। এর বেশি আনলে কাস্টমস তা আটক করবে। আটক রশিদ (DM )বুঝে নিবেন। আটককৃত সিগারেট বিধি মোতাবেক বিক্রয়/ধ্বংসযোগ্য,তাই ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নাই।

১০. মদ/মদ জাতীয় পানীয়: সবুজ পাসপোর্ট অর্থাৎ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী নাগরিকদের জন্য মদ আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আনলে কাস্টমস তা আটক করবে। বিদেশি পাসপোর্টধারী নাগরিক হলে ১ লিটার পর্যন্ত আনতে পারবেন। এর বেশি আনলে কাস্টমস তা আটক করবে। আটক রশিদ (DM ) বুঝে নিবেন। আটককৃত মদ বিধি মোতাবেক বিক্রয়/ধ্বংসযোগ্য,তাই ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নাই।

সাময়িকভাবে আটককৃত পণ্য শুল্ক-করাদি পরিশোধ সাপেক্ষে তাৎক্ষনিকভাবে শুল্ক-করাদি পরিশোধ করার মত টাকা সাথে না থাকলে ভয়ের কিছু নেই। সেক্ষেত্রে কাস্টমস তা সাময়িকভাবে আটক করবে। আটক রশিদ (DM ) বুঝে নিবেন। সাময়িকভাবে আটককৃত পণ্য ২১ দিনের মধ্যে যথাযথ শুল্ক-করাদি পরিশোধ সাপেক্ষে ফেরত পেতে পারেন।