সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবল ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয় দলের কিশোরীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার গণভবনে এক সংবর্ধনা দিয়েছেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যতম ফুটবল কন্যা ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২ বার হ্যাটট্রিক করা তহুরা প্রধানমন্ত্রীকে যা বলেছিল তা অবাক করার মতো।
সে নিজের জন্য বা সতীর্থ খেলোয়াড়দের জন্য কিছুই চায়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে পুরস্কার নেয়ার সময় হাসতে হাসতে তহুরা তার প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের দাবি জানায়। তখন উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিক আছে করে দেবো। আগামী দিনে আরো ভালো খেলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী মেয়েদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি গোল করেছে?’ বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি গোল করেছে তহুরা। প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। নেপালের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিল তহুরা।
প্রধানমন্ত্রীর দেখা পাওয়া, তার মুখ থেকে তাদের প্রশংসা শুনে আবেগে আপ্লুত অনূর্ধ্ব-১৫ দলের মেয়েরা। তহুরা নিজেই বলছে, এটি তার জন্য অনেক বড় পাওয়া।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে রীতিমতো রোমাঞ্চিত তহুরা, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি আমাদের খেলা দেখেছেন। খেলা দেখে তিনি খুবই খুশি। ভবিষ্যতে আরো ভালো করার কথা বলেছেন। এ নিয়ে আমি তিনবার প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি গেলাম। খুবই ভালো লাগছে।’
২য় শ্রেণিতে পড়ার সময় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব প্রাথমিক জাতীয় নারী ফুটবল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সূচনা হয় তার ফুটবল জীবন। উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে একাধিক সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছে সে।
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রামের সাধারণ কৃষক ফিরোজ আলীর মেয়ে তহুরা। চার মেয়ে এক ছেলের মধ্যে তহুরা হলো তৃতীয়। তহুরা অতি অল্প সময়ে অনেক সুনাম অর্জন করে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে। তার এই কৃতিত্বের জন্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ওই গ্রামে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দেন। লিকলিকে ও ছোটখাট গড়নের অষ্টম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ তহুরা আজ শুধু ময়মনসিংহই নয়, সারা বাংলাদেশের গর্ব।
সাফ অ-১৫ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম খেলায় ৬-০ গোলে নেপালকে হারায়। ম্যাচে চোখ ধাঁধানো হ্যাটট্রিক করে তহুরা। এছাড়া একটি গোলের জোগানও দেয়। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুটি হ্যাটট্রিকের মালিক তহুরা। প্রথমটি করেছিল তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচে ৯-১ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশ। তহুরা করেছিল হ্যাটট্রিক। আসরটি ছিল এএফসি অ-১৪ আঞ্চলিক (সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল)। আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে এ নিয়ে তহুরার গোল দাঁড়ালো ১৬তে।
তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এএফসি অ-১৪ আঞ্চলিক আসরে ১০টি, নেপালে অনুষ্ঠিত একই আসরে ১ গোল, ঢাকায় অনুষ্ঠিত এএফসি অ-১৬ আঞ্চলিক আসরের বাছাইপর্বে ২ গোল এবং সাফ অ-১৫ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে ৩ গোল।
নিজের এলাকায় তহুরাকে সবাই ‘মেসি’ বলে ডাকে। এ প্রসঙ্গে তহুরার ভাষ্য, ‘এলাকার মুরব্বিরা দেখলেই মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলেন, মেসির মতো যেন সব ম্যাচেই গোল করি।’ এজন্য দেশবাসীর দোয়া চাই।’





