হিরো হোন্ডার জনপ্রিয় বাইক ছিল হাঙ্ক। হিরো ও হোন্ডা আলাদা হওয়ারও পরও হিরো হাঙ্কের উৎপাদন অব্যাহত রাখে। স্পোর্টি লুক আর মাসকুলার বডির জন্য তরুণদের কাছে বাইকটি জনপ্রিয়তা পায় হাঙ্ক।
কিন্তু ভারতে এই বাইকটির উৎপাদন সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে। এবার নতুন খবর হলো বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে হাঙ্ক।
যশোরের একটি কারখানায় এই বাইকটি তৈরি হচ্ছে। নিলয় মোটরস লিমিটেড এবং হিরো মোটর করপোরেশন যৌথভাবে এই কারখানা পরিচালনা করছে।
হিরো হোন্ডার হাঙ্কের সঙ্গে হিরো হাঙ্কের ডিজাইনগত পার্থক্য রয়েছে। তবে ইঞ্জিনের পারফরমেন্স একই। নতুন হাঙ্কে কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন না এলোও এর গ্রাফিক্সে বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন হাঙ্কে ফিয়েরি পাইরোক্লাস্টিক গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে দেখতে এটি অনেক আকর্ষণীয় হয়েছে। এর নতুন কনসোলে আছে সাইড স্ট্যান্ড ইন্ডিকেটর।
হিরো হাঙ্কে আছে শক্তিশালী এটিএফটি ইঞ্জিন। বাইকটিতে জিআরএস সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বাইকের আরোহী ও চালক আরামদায়ক ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।
হিরোর দেশীয় পরিবেশক নিলয় মটরস লিমিটেডের তেজগাঁও শাখার বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ভারতে হাঙ্কের উৎপাদন বন্ধ হলেও বাংলাদেশে এর উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। ভারতে উৎপাদিত হাঙ্কের চেয়ে বাংলাদেশে উৎপাদিত হাঙ্কের দাম অনেকটাই কম। নগদের পাশাপাশি কিস্তিতে হাঙ্কসহ হিরোর সকল মোটরসাইকেল কেনা যাবে।
দেশে ছয়টি রঙ ও লুকে হিরো হাঙ্ক পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো হলো-প্যানথার ব্ল্যাক, পার্ল হারবার গ্রিন, ইবোনি গ্রে, হোয়াইট, বোল্ড ব্রাউন এবং ব্লেজিং রেড।
হাঙ্কে আছে ৪ স্ট্রোক সিঙ্গেল সিলিন্ডার ওএইচসি। ডিসপ্লেসমেন্ট ১৪৯.২ সিসি। সেলফ স্টার্টার সম্বলিত বাইকটিতে আছে ৫ স্প্রিড গিয়ার ট্রান্সমিশন। মাল্টিপ্লেট ওয়েট ক্লাচের এই বাইকটির ফ্রন্টে টেলিস্কোপিক হাইড্রোলিক শক অ্যাবসর্ভার রয়েছে। রিয়ারে আছে ৫ ধাপের অ্যাডজাস্টেবল ইনভার্টেড গ্যাস রিজারভয়ার সাসপেনশন।
হাঙ্কের ফুয়েল ট্যাংক ক্যাপাসিটি ১২.৮ লিটার। রিজার্ভের জ্বালানির ধারণ ক্ষমতা ২.২ লিটার।
বাংলাদেশে উৎপাদিত হাঙ্ক শুধুমাত্র ডাবল ডিস্ক ব্রেক ভার্সনে পাওয়া যাচ্ছে। হাঙ্কের মূল্য ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।
নিলয় মোটরস লিমিটেডের বিপণন বিভাগ সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মাহাবুব বলেন, ‘নিলয় মোটরস লিমিটেড হিরো মোটর করপোরেশনের উৎপাদিত বাইক দীর্ধদিন ধরে বাজারজাত করে আসছে। কিন্তু হিরোর এই বাইক দেশে আমদানী করতে গেলে মোটা অংকের শুল্ক দিতে হয়। ফলে বাইকের দাম বেড়ে যায়। এই সমস্যাটা দূর করতে হিরোর সঙ্গে নিলয় মোটরস করপোরেশনের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যশোরে মোটরসাইকেল উৎপাদন কারখানা চালু করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এই কারখানা উদ্বোধন করা না হলেও এখানে মোটরসাইকেল উৎপাদন চলছে। এই কারখানায় হাঙ্কের মত হিরো জনপ্রিয় মোটরসাইকেল উৎপাদন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে যশোরের এই কারখানায় তৈরি হচ্ছে টায়ার, টিউব, চেসিস, প্লাস্টিক কিট ইত্যাদি। ভারত থেকে ইঞ্জিন ও এর আনুসঙ্গিক আরও কিছু যন্ত্রাংশ আমদানী করে কারখানায় সংযোজন করা হচ্ছে। বাইকের রঙও এখানে হচ্ছে। ফলে আমাদের এই কারখানা থেকে একটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ রূপে ফিনিশিং প্রডাক্ট হিসেবে বাজারে আসছে।’
মো. মাহাবুব জানান, দেশে হিরো মোটর করপোরেশনের উৎপাদিত বাইকের দাম ভারতে উৎপাদিত হিরো মোটরসাইকেলের দাম অনেকটাই কম। ভবিষ্যতে হিরো মোটরসাইকেলের দাম আরও কমবে। এজন্য তিনি সরকারি সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।




