নাজমুল হক নাহিদ, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ সীমান্ত পাবলিক স্কুল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত। শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্কুলটিতে মিড-ডে মিল তথা দুপুরে টিফিন চালু করা হয়েছে। বছরের প্রথম দিন থেকে টিফিন চালু করা হয়। দুপুরে টিফিনের ব্যবস্থা করায় আনন্দিত শিক্ষার্থীরা। দুশ্চিন্তা মুক্ত অভিভাবকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিশু শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত এক হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী আছে। এরমধ্যে ৯০০ জন ছাত্র এবং ৬০০ জন ছাত্রী। এরমধ্যে ১০০ জন শিশু শ্রেনী। দুপুরের আগেই শিশুদের ছুটি হয়ে যায়। মিড-ডে মিলের আওতায় এসেছে এক হাজার ৪০০ জন শিক্ষার্থী। বেতন দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা করতে হয়। আর বেতনের সাথে
প্রতিজন শিক্ষার্থী প্রতিমাসে মিড-ডে মিল বাবদ ১০০ টাকা দিতে হবে। প্রতি সপ্তাহে চারদিন (রবি, সোম, মঙ্গল ও বুধবার) দুপুরে টিফিন সরবরাহ করা হবে। সপ্তাহে তিনদিন টিফিনে থাকবে রুটি, মিষ্টি, সিংড়া, সমুচা ও কেক এবং রবিবার দিনে টিফিন থাকবে ভূনা খিচুড়ি, খিচুড়ি, ডিম, সবজি অথবা পোলাও। নিজেরাই রান্না করা
হবে।
বেশির ভাগ শিক্ষার্থী সকালে বাড়ি থেকে না খেয়ে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ে স্কুলে আসে। এসময়ের মধ্যে হোটেল ও দোকানে কিছু খেয়ে স্কুলের ক্লাস শুরু করে। এতে করে টিফিনের পর তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ত। পরবর্তী ক্লাসে তেমন মনোযোগ থাকেনা। অনেকে স্কুল থেকে টিফিনের পর বাড়ি চলে যায়। এতে করে অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তা করত। আর
এসব দিক বিবেচনা করে শিক্ষার মান উন্নয়নে স্কুলটিতে মিড-ডে মিল চালু করা হয়। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা আর ফাঁকিও দিতে পারবেনা।
নবম শ্রেনীর ফাতেমাতুজ্জোহরা বিথী, শাহনারা হোসেন ইমা ও পারভেজসহ কয়েক শিক্ষার্থী বলেন, স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী আছে যাদেরকে আমরা তেমন চিনি না বা জানিনা। বিভিন্ন জনের বাড়িতে বিভিন্ন রকমের খাবার খায়। বিভিন্ন রকম টিফিন নিয়ে আসতে হতো। অনেক সময় সকালে না খেয়ে স্কুলে আসতে হতো। দুপুরের পর
স্কুলে থাকতে মন চাইতো না। এখন মিড-ডে মিল চালু হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। এখন থেকে ছোট-বড় সবাই একসাথে একই রান্না একবেলা খেতে পারব।
ষষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী রোদসী আভা রুপতি’র মা নাজমা বিবি বলেন, সকালে মেয়ের ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়। তড়িঘড়ি করে কখনো খেয়ে, আবার কখনো না খেয়েই স্কুলে ছুটে আসতে হয়। দেখা যায় বাহিরের দোকানগুলোতে সকালে ও দুপুরে নাস্তা খেয়ে নিতে হয়। বাহিরের খাবারের দামও বেশি পড়ত এবং স্বাস্থ্য সম্মত ছিলনা। এতে অনেক সময় গ্যাসের সমস্যায় মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্কুলে মিড-ডে মিল চালু হওয়ায় এখন অনেকটাই সুবিধা হলো এবং দুশ্চিন্তা মুক্ত হলাম। এখন খরচটাও কিছুটা কমল এবং স্বাস্থ্য সম্মত খাবার খেতে পারবে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেওয়ান মো: গোলাম রসুল সাকলায়েন বলেন, এটি শিক্ষা নীতিমালার একটি অংশ। এখন থেকে শিক্ষার্থীদেরকে আর কষ্ট করে বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে আসতে হবেনা। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসত না। দুপুরের পর তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ত। পেটে খুদা থাকলেতো আর পড়াশুনা ভাল লাগবেনা। এখন স্কুল থেকেই
দুপুরে খাবার সরবরাহ করা হবে। এতে শিক্ষার্থীদের শরীরও ভাল থাকবে।
স্কুলের সভাপতি লে: কর্ণেল মোহাম্মদ হোসেন বিজিবি এমএস বলেন,বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পরিচালিত বিদ্যালয় সমূহের রীতি অনুযায়ী স্কুলে প্রথম মিড-ডে মিল চালু করা হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করার সময় বিরক্তবোধ হবে না এবং পড়াশুনায় মনোযোগ দিতে পারবে।





