চলমান রাজনৈতিক সংকট, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দেশের অন্যতম সুনামধন্য নিউজ পোর্টাল বিডি২৪লাইভের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন ২০ দলীয় জোটের শরীক দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মতুর্জা। তার সাথে কথোপকথনের চুম্বর অংশ তুলে ধরা হলো:-

২০ দল সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। ২০ দল আগেও নির্বাচন করেছে আর সামনেও নির্বাচনে যাবে। তবে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করে তারপর নির্বাচনে যাবে ২০ দল। দেশের মানুষ যেদিন নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে, পছন্দ মত ভোটারকে তাদের ভোট দিতে পারবে, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা যখন রাজনীতিতে ফিরে আসবে তখনই ২০দল নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে। আর সরকার যদি আবারও ভাবে তারা অন্যায় ভাবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি পাতানো নির্বাচন করতে চায় তাহলে সেটা হবে তাদের ভুল ধারণা। কেননা এক খেলা বার বার খেলে জেতা যায় না। আমার বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং দেশের এই বড় একটা সংকট সমাধানে জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে একটা সমঝোতার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করবে।

এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে গেলে কতটুকু লাভ হবে। জনগণ কি তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পারে? প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কথা সেটাও না। হাসিনার অধীনেও নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু কথা হলো আপনার (শেখ হাসিনা) প্রতি সবার সেই বিশ্বাসটা থাকতে হবে। যে আমি ক্ষমতায় আবার নাও আসতে পারি। জনগণ যদি ভোট দেয় তাহলে ক্ষমাতায় যাব আর না দিলে যাব না। কিন্তু সেটার তো প্রমাণ দিতে হবে। সরকার এখনও বলছে তারা ক্ষমাতায় যাবে। বিদেশে গিয়েও বলেছে। সজিব ওয়াজেদ জয়ও বলেছেন, আমাদের জরিপ হয়ে গেছে। তাহলে দেশের মানুষ কিভাবে মনে করবে এ দেশে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে ফেয়ার নির্বাচন হবে। সে ধরনের কোনো সুযোগই তো নাই। এখন কথা হলো ২০ দলের মধ্যে বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায়, সহায়ক সরকার না হয়। মানুষ যদি তার ভোট না দিতে পারে, ভোট কেন্দ্রে না যেতে পারে, দেশে যদি গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকে তাহলে ওই ধরনের নির্বাচনে অংশ নিয়ে কি হবে?

তিনি বলেন, বিএনপিকে তো আন্দোলনের দিকে যেতেই হবে। উপায় নাই। সরকার সহায়ক সরকার এমনিতেই দেবে না। কিন্তু সে আন্দোলনটা নেগেটিভ হলে হবে না। তাই আমার কথা হলো বিএনপি আন্দোলন করলে সেটা পজেটিভ হতে হবে। কেন বলছি ২০১৫ সালে যে ঘটনা ঘটলো। বেগম জিয়া যখন অবরোধের ডাক দিলেন। একদিন আমি তখন কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসতেছি। দেখলাম একটা নতুন এসি বাস রাস্তায় নামিয়ে বলছে একহাজার টাকা করে ভাড়া কারা যাবেন। সব উঠে পরছে ওই বাসে। ওই বাসটা যখন চৌদ্দগ্রাম আসল তখন দুর্ঘটনার শিকার হলো।

আমি পত্র-পত্রিকায় দেখেছি ওই বাসটা যখন আসে তার গতি ছিলো ১৩০ কিলোমিটার। তো ১৩০ কিলোমিটার বাসে যদি ঢিল, বোম বা যাই মারা যায় তার গতি কত থাকতে হবে? নিশ্চই বাসের গতির চেয়ে বেশি। কিন্তু দেখা গেলে যে ওই বাসটি পেট্রোল বোমায় জ্বলে গেল। অনেক লোক মারা গেল। বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটলো। এখন আমার কথা হলো বাসটি কাদের ছিলো। কারা বাসটাকে নিয়ে গেলে। এটার তো তদন্ত হওয়া দরকার। এখন সে সময় তো অনেকেই বলছিলো আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ কাজটা করেছিলো। অনেকে আবার গ্রেপ্তারও হয়েছে। আমি বলতে চাচ্ছি। যে আপনি (খালেদা জিয়া) আন্দোলনটা ডাকলেন আর ফসল অন্যজন নিয়ে যাচ্ছে। তখন আপনি (খালেদা জিয়া) এটাকে বন্ধ করে দিলেন না কেন?

এর দায়িত্ব কেন আমাদের নিতে হল। তখন যদি আপনি (খালেদা জিয়া) অবরোধ বন্ধ করে বলতেন এই কাজগুলো আমরা (বিএনপি) করছি না। এটা বললেই হতো। এখন এটাকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের নামে অযথা মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। কেউ জানেন না তবুও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যেমন ধরেন আমি ছিলাম রাজশাহীতে তবুও আমাকেও আসামী করা হয়েছে। এছাড়াও আমি একদিন ম্যাডামের সাথে দিনাজপুরে ছিলাম কিন্তু ঢাকায় হরতালের কারণে আমার নামে মামলা হয়েছে। যে কোনো ঘটনা ঘটলেই মামলা দিয়ে দেয়। তাই বলছি এবার আন্দোলন করলেও দেখতে হবে বুঝতে হবে। জনগণের বিপক্ষে না যায়। আর অন্য কেউ যেন ফসল তুলতে না পারে। এই আন্দোলনটা যেন সত্যিকারের মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলন হয়।

নির্বাচন কমিশন গঠনের পর থেকে এই কমিশনের নামে নানা অভিযোগ উঠেছে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলো এই কমিশনের কাছে পরীক্ষাও বলতে পারেন। যেহেতু সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচন গুলোর মধ্য দিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট বোর্ডটা তো ওনার (খালেদা জিয়া) নিজের। ওনার টাকা ওনি খরচ করবেন এতে এত সমস্যার কি আছে বরং এখানে অনেক টাকা বেশি হয়ে গেছে। কুয়েত থেকে যে অনুদান এসেছে সেটা তো খরচ হয়নি। সে টাকার হিসাব নিকাশ নাই। এই মামলা দিয়ে আপনি প্রতি সপ্তাহে বেল দিবেন। অন্য কত হাজার হাজার মামলা পরে আছে। সেদিকে কারও কোনো নজর নাই। তা হলে এমনি তো বোঝা যায় এ মামলা কি জন্য, কি উদ্দেশ্যে দেয়া হয়েছে।

২০ দলের এই নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নামেও তো আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়েছিল। কিন্তু মামলা দিয় তখন কেউ তার জনপ্রিয়তা কমাতে পারেনি বরং তখন থেকেই তিনি আরও বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তাই বলছি বেগম জিয়াকে এই মামলায় এক তরফা ভাবে রায় দিলে কতটুকু কি হবে আমি জানি না। তবে এটা দেশের জন্য সুখকর হবে না এটা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।

নেতৃত্ব সংকটের কোনো কারণই দেখছি না। বেগম জিয়া তো দেশেই আছেন। তিনি তো আর মামলার ভয়ে বিদেশে পালিয়ে যায়নি। নেতৃত্ব সংকট হওয়ার তো কিছু নেই। আর বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে অযোগ্য করে এদেশের মাটিতে নির্বাচন অতো সহজ বিষয় নয়। এতো বড় সাহস সরকারের এখনও হয়নি। কেন না জনগণ তার সাথে আছেন। কারণ তিনিই দেশে একমাত্র জনপ্রিয় নেত্রী যার প্রমাণ তিনি বার বার দিয়ে এসেছেন