মিলনের সুখের মাধ্যম হিসেবে বিশেষত কম বয়সি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বাড়ছে ওরাল মিলনের প্রবণতা৷যার জেরে এ শহরেও বাড়ছে ক্যান্সার আক্রান্তের ঘটনা৷বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গৌতম মুখোপাধ্যায়৷

ওরাল মিলনের বাড়ছে এই শহরেও বিশেষত, এই ধরনের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে কম বয়সি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ৷আর, তার জেরে ওরাল অর্থাৎ, মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও আগের তুলনায় বেশি দেখা দিচ্ছে কল্লোলিনী এই তিলোত্তমায়৷ ওরাল মিলনের জন্য দেখা দিচ্ছে সার্ভিক্স অর্থাৎ, জরায়ুর ক্যান্সারও৷

সাধারণত তামাকজাত বিভিন্ন দ্রব্যের ব্যবহার এবং মদ্যপানের কারণে ওরাল ক্যান্সার হয়৷ এর মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তামাকজাত বিভিন্ন দ্রব্যের ব্যবহারই ওরাল ক্যান্সারের জন্য অন্যতমভাবে দায়ি৷ তবে, ওরাল মিলনেরও যে ওরাল ক্যান্সারের জন্য দায়ি, তাও ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে৷ বিভিন্ন সমীক্ষা এবং গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে, বিভিন্ন দেশে বিশেষত, কম বয়সি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ওরাল মিলনের প্রবণতা রয়েছে৷ আর, ওই প্রবণতাই ডেকে আনছে ওরাল ক্যান্সারের মতো বিপদ৷

ওরাল মিলনের জন্য যে ওরাল ক্যান্সারের শিকার হতে হচ্ছে, তার জন্য দায়ি হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)-এর ১৬ নম্বরটি অর্থাৎ, এইচপিভি-১৬৷জরায়ুর ক্যান্সারের জন্যও অন্যতমভাবে দায়ি এই এইচপিভি-১৬ তবে, আশার বিষয় হল, ওরাল মিলনের কারণে যে ওরাল ক্যান্সার হয়, তা সম্পূর্ণ সেরে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে এর চিকিৎসায় ভালো সাড়াও মেলে চিকিৎসা বলতে কেমো এবং রেডিওথেরাপি তবে, রোগনির্ণয়ের বিষয়টি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷

কারণ, প্রাথমিকস্তরে যদি ওরাল ক্যান্সার ধরা না পড়ে, তা হলে বিপদের আশঙ্কা থেকেই যায়৷ওরাল মিলনের জন্য আবার জরায়ুর ক্যান্সারও হতে পারে সেক্ষেত্রেও দ্রুত রোগনির্ণয় সম্ভব হলে, এড়ানো যেতে পারে বড় মাপের বিপদ৷

যদিও, এইচপিভি-১৬-এর সংক্রমণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যে ওরাল অথবা জরায়ুতে ক্যান্সার হয়ে যাবে, তা কিন্তু নয়৷ এই ভাইরাস সংক্রমণের বেশ কয়েক বছর পর দেখা দিতে পারে ক্যান্সার ওরাল মিলনের বিষয়টি ব্যক্তিগত রুচির আওতাধীন৷কাজেই, এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেই ভালো৷

ওরাল মিলনের জন্য যে ওরাল ক্যান্সার হতে পারে, সেই বিষয়েও চিকিৎসকদের আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন বিভিন্ন দেশের বিশেষত কম বয়সি ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ওরাল মিলনের প্রবণতা রয়েছে৷বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, আগের তুলনায়বাড়ছে ওরাল মিলনের প্রবণতা

ওরাল মিলনের কারণে কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে ওরাল অথবা জরায়ুর ক্যান্সার, সে বিষয়ে এখানে পৃথক কোনও সমীক্ষা হয়নি৷ তবে, একজন চিকিৎসক হিসেবে বলতে পারি, ওরাল মিলনের কারণে আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে ওরাল ক্যান্সারের ঘটনা ওরাল মিলনের কারণে সঙ্গী অথবা সঙ্গিনী, যে কারও ক্ষেত্রেই ওরাল ক্যান্সারের আশঙ্কা থেকে যায়৷ কারণ, এইচপিভি হল ডবল-স্ট্যান্ডার্ড ডিএনএ ভাইরাস৷

এই ভাইরাস ত্বকের এপিথেলিয়াল কোষে বাসা বেঁধে থাকতে পারে৷ বিশেষত মুখের ভিতর, গলা, জিহ্বা, টন্সিল, যো*নি, যো*নিদ্বার, জরায়ু, মলদ্বার, লি*ঙ্গমুখ – এমন সব স্থানের আর্দ্র এপিথেলিয়াল কোষের উরিভাগের অংশে৷ ফলে, যৌ*ন সম্পর্কের সময় ত্বকের সঙ্গে ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে যেতে পারে একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে৷কাজেই, সঙ্গী অথবা সঙ্গিনী, যে কেউ-ই ওরাল মিলনের কারণে আক্রান্ত হতে পারেন ওরাল ক্যান্সারে৷ অন্যদিকে, ওরাল মিলনের কারণে সারভিক্স অর্থাৎ, জরায়ুর ক্যান্সারেও আক্রান্ত হতে পারেন সঙ্গিনী৷