স্ত্রীসহ পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া তাদের মেয়ে ঐশী রহমানের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।রোববার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও

মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।দণ্ড কমানোর কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যায় আদালত বলেন, পাঁচটি কারণে ঐশীর মৃত্যুদণ্ড

কমিয়ে যাবজ্জীবন শাস্তি দেয়া হয়েছে।

১. হত্যাকাণ্ডের সময় ঐশী মাদকাসক্ত ছিলেন। ১৪ বছর বয়স থেকেই তিনি সিসা, ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল এসব নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করতেন।

২. ঐশী বংশগতভাবে মানসিক রোগী। তার চাচা-দাদি-খালা অনেকের মাঝেই মানসিক রোগের লক্ষণ আছে, যা তার মাঝেও ছোটবেলা থেকে বিদ্যমান।

৩. হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দ্বিতীয় দিনের মাথায় তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন। এতে বোঝা যায়, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

দীঘির মা দোয়েল গত হয়েছেন ২০১১ সালে। সামনের ২৯ ডিসেম্বর দোয়েলের মৃত্যুবার্ষিকী। দোয়েল যখন ইহলোক ত্যাগ করেন তখন দীঘি ক্লাস টুতে পড়ে। মায়ের প্রসঙ্গ আসতেই দীঘির চেহারায় ভেসে ওঠে করুণ আর উদাসীন বহির্প্রকাশ। তারপর দীঘি বলেন, মা তো মা-ই। যার মা নেই, কেবল সে-ই জানে সে কি হারিয়েছে। আসলে কিছু কিছু বিষয় থাকে যা ভাষায় প্রকাশ করে বোঝানো সম্ভব নয়। মা চলে গেছেন আমার অনেক ছোট বয়সে। তারপর থেকে আমার কাছে মাও বাবা আর বাবাও বাবা। বাবা ছাড়া আমার এক মুহূর্তও চলে না।

দীঘি যখন এসব কথা বলছিলেন তখন পাশেই বসা ছিলেন বাবা সুব্রত। একটু আনমনা হয়ে গেলেন। দীঘিকে আড়াল করে বললেন অনেক কথা। ‘দোয়েলের মৃত্যুর পর অনেকেই আমাকে বলেছেন দ্বিতীয় বিয়ে করতে। কিন্তু যখন ছোট্ট দীঘির চেহারা দেখি তখন সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। ও এখন বড় হয়েছে, কিন্তু মজার বিষয় হলো এখনও আমাকে ছাড়া তার ঘুম আসে না। বাকি জীবনটা ওর দিকে তাকিয়েই কেটে যাবে।’

দীঘিকে নিয়ে নিজের স্বপ্ন প্রসঙ্গে অভিনেতা সুব্রত বলেন, ‘আমি কখনও ওকে কোনো কিছু চাপিয়ে দেব না। আমি সব সময় ওকে বলেছি বড় হয়ে যেটা তোমার মন চায় সেটাই করবে। তবে দীঘির রক্তে যেহেতু অভিনয় মিশে রয়েছে সেহেতু সে অভিনয়ের দিকেই যাচ্ছে। সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিনেমাভিনয় করবে। আমার কোনো আপত্তি নেই।’

২০০৫ সালে দীঘি মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করেন বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে। এরপর ২০০৬ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম সিনেমা কাজী হায়াৎ পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘শাবুলিওয়ালা’। প্রথম ছবিতেই দীঘি পেয়ে যায় শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর আরও দুইবার সে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়েছে ২০০৮ সালে ‘এক টাকার বউ’ এবং ২০১০ সালে ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’ ছবিতে। কাবুলিওয়ালা তথাকথিত বাণিজ্যিক ঘরানার ছবি ছিল না। এই ঘরানায় দীঘির প্রথম বাণিজ্যিক সফল সিনেমা ছিল চাচ্চু। এ ছবির পর সিনেমা ব্যবসায়ীদের কাছে দীঘি নামটি হয়ে ওঠে সফলতার সোপান। বিরতির আগ পর্যন্ত মোটামুটি কেন্দ্রীয় চরিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে দীঘি অভিনয় করেছেন ২২টি ছবিতে। তার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘ছোট্ট সংসার’। এরপরই দীঘি চলে যান বিরতিতে।

সুব্রত বলেন, পড়ালেখাটা খুবই জরুরি। আর মা-হারা একটি মেয়ের অভিনয়ের পাশাপাশি পড়ালেখা ঠিকমতো চালিয়ে যাওয়া সত্যি কঠিন। আমিও মনে-প্রাণে চাইছিলাম দীঘি একটি বিরতি দিয়ে পড়ালেখার একটা পর্যায় পার করে তারপর কাজে ফিরুক। বলতে পারেন, দীঘিকে নিয়ে এটা আমার পরিকল্পনার একটি অংশ ছিল। এই দীর্ঘ সময় আমি মেয়েকে আগলে রেখেছি। স্কুল আর পারিবারিক অনুষ্ঠান ছাড়া তেমন কোথাও বের হতে দেইনি। আমি চেয়েছি দীঘিকে হঠাৎ দেখে সবাই অবাক হোক।