ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসেন আমাদের পাঠিয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত করতে এসেছি। আমার নাম জজ ও ওর সাঈদ এই বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে আপত্তিকর কথাবর্তা জিজ্ঞেস করে। এরপর আমি অজ্ঞান হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার শুনছি আমার নামে আজেবাজে কথা রটিয়ে বেড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় এসব কথা জানান সাতক্ষীরার কলারোয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারগিস আক্তার।
মেয়েটি উপজেলার সিবানন্দকাটি গ্রামের আব্দুল কাদের আলীর মেয়ে ও শাকদাহ বালিকা বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী।
নারগিস আক্তার আরো জানান, আমার নামে বিভিন্ন আপত্তিকর ও বানোয়াট কথাবর্তা রটিয়ে বেড়াচ্ছে এইসব ছাত্রলীগ নেতারা। এখন মরণ ছাড়া আমার আর কোন গতি নেই। বিদ্যালয়ে সহপাঠীরা মোবাইলে বিভিন্ন কথা বলছে। আমি এই ছাত্রলীগ নেতাদের বিচার দাবি করছি।
মেয়েটির নানী রাশিদা বেগম জানান, বুধবার হাঠাৎ হাসপাতালে এসে দুটো ছেলে ভায়ভীতি দেখাতে শুরু করে। আমি কথা বলতে গেলে আমাকে ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেয়। এরপর আমার নাতনির সঙ্গে অসোভন আচরণ করে ছবি তুলে নিয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার হাসপাতালে গিয়ে স্কুলছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখানো সাঈদ কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও জজ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ ইমরান হোসেন বলেন, আমি হাসপাতালে কাউকে পাঠায়নি। তবে গতকাল থেকেই বিষয়টি বিভিন্নভাবে মোবাইলে শুনছি। সঠিক বিষয়টি আমি জানি না। কোন মেয়ের সাথে আমার কথাবর্তাও হয়নি।
এদিকে, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী নারগিস আক্তার অভিযুক্ত ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান, সাঈদ ও জজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
অন্যদিকে, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জজ হাসপাতালে যেয়ে স্কুলছাত্রলী মেয়েকে ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে এখনো আমি অবগত নই। তবে ছাত্রলীগের কেউ অপরাধী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া মেয়েকে ভয়ভীতি দেখানো ও আপত্তিকর বক্তব্য উপস্থাপনা পূর্বক সম্মানহানি ঘটনানোর প্রতিবাদে কলারোয়া বৃহস্পতিবার দুপরে কলারোয়া রিপোর্টাস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মেয়েটির বাবা আব্দুল কাদের।





