গাজীপুর সদর উপজেলার হাড়িনাল এলাকার এক প্রবাসী তরুণকে মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে এক গার্মেন্টস নারী শ্রমিকের বিরুদ্ধে। হাড়িনাল এলাকার মৃত হাশেম আলীর ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. সোহাগ হোসেন (২৮) সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত নারী গার্মেনটস শ্রমিকের নাম সুমা আক্তার সুমি (২২)। সে নেত্রকোনার দূর্গাপুর উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের দুলাল বিশ্বাসের মেয়ে।

প্রবাসী সোহাগ জানায়, ২০১৫ সালের ঈদ-উল আযহার দু’দিন আগে ফেজবুকে ফোন নম্বর পেয়ে সুমিকে ফোন দেন তিনি। সে সময় গাজীপুর এলাকার একটি গার্মেন্টসে নারী শ্রমিকের কাজ করতো। পরিচয়ের পর সুমির আগ্রহে তার সাথে মোবাইল ফোনে শুরু হয় প্রেমের সম্পর্ক। সুমিরা ৫ বোন ২ ভাই। বোনদের মধ্যে সুমি ছিল তৃতীয়। তার সাথে পরিচয়ের আগেই বড় দুই বোনের বিয়ে হয়। পরে হয় ছোট এক বোনের। সম্পর্কের এক পর্যায়ে সুমি তাকে বিয়ে করার চাপ দেয়। সহজ-সরল সোহাগ তাতে রাজি হন এবং তাকে তিনটি শর্তজুড়ে দেন। শর্তের মধ্যে গার্মেন্টসের চাকুরী ছাড়তে হবে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও নিয়মিত কোরআন পড়তে হবে। রাজি হয়ে যায় সুমি। ছেড়ে দেয় গার্মেন্টসের চাকুরী।

ফিরে যেতে চায় গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু অজুহাত ভাঙ্গা মাস হাতে টাকা-পয়সা নেই, কি করে বাড়ি ফিরবে? এবং বাড়ি ফিরলে পরিবারের লোকজন চাকুরী ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে সে কি বলবে? তখন সুমিকে জিজ্ঞাসা করা হয় সে কি করতে চায়? সুমি বলে আল্লাহ রাসূলকে (সাঃ) স্বাক্ষী রেখে পবিত্র কোরআন শরীফ শপথ করে তাকে স্বামী হিসাবে পেতে চায়! সোহাগ তখন তাকে বিশ্বাস করে তাতে সম্মতি দেয়। পরে সে বাড়ি চলে যাওয়ার কথা জানিয়ে বাড়ি যাওয়া, নতুন কাপড়-চোপড়, চুড়ি, নাকফুল কোরআন শরীফ ও বোরকা ক্রয় বাবদ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। সোহাগ ওর বাসার পাশের একটি বিকাশ দোকানের নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠায়। টাকা পাঠালে সুমি সোহাগকে জানায় তার বিয়ের খবর শুনে তার সহকর্মীরা তার কাছে মিষ্টি খেতে চেয়েছে। পরে ওই একই নম্বরে মিষ্টি খাওয়ার জন্য পাঠানো হয় আরো ২ হাজার টাকা। বাড়ি যাওয়ার আগে সুমির কাছে তার ছোট বোন রিনা আসে। ফোনে রিনার সাথে সোহাগকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় সুমির স্বামী বলে।

তিনি আরো জানান, বাড়িতে যাওয়ার আগে বাড়ির সবার জন্য কেনা-কাটা করবে বলে সুমি আরো ১০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে বলে এবং সেই টাকা পাঠানো হয়। গ্রামের বাড়ি ফিরে যায় সুমি। বাড়ি গিয়ে বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চায় এবং এক মহিলা ইমামের কাছে তওবা করে নিয়মিত ধর্ম-কর্ম করতে শুরু করে। সোহাগও বিশ্বাস করতে শুরু করে সুমিকে। বাড়ি গিয়ে সুমির পরিবার, সমাজের মানুষ এমনকি মসজিদের ইমামের কাছেও তার বিয়ের কথা বলে এবং সোহাগকে স্বামী হিসেবে পরিচয় দেয়। এভাবে একে একে বাড়ির প্রতিটি সদস্যদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়। বাদ যায়নি আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীও। তারাও সোহাগকে সুমির জামাই বলে জানতে এবং মানতে শুরু করে। বাড়ি গিয়ে তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত একটি (০১৯৯৬০..১২০) নম্বরে বিকাশ হিসাব খুলে। সেই নম্বরেই স্ত্রী হিসেবে সংসারের খবর বাবদ প্রতি মাসে ১৫/২০ হাজার টাকা পাঠাতো সোহাগ। সুমির সাথে মোবাইল ফোনে নিয়মিত চলতে থাকে তাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক।

সোহাগ জানায়, সুমি ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাড়ি থেকে কিছু না বলে পূনরায় গাজীপুর চলে আসে এবং এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও দু’দিন বন্ধ রাখে। পরে তার সাথে যোগাযোগ করলে সুমি জানায় বাবা-মা ও বোনদের যন্ত্রণায় বাড়ি ত্যাগ করেছে। তারা নাকি তার কাছে শুধু টাকা-পয়সা চায়। গাজীপুরের এসে সোহাগের বারন সত্তে¡ও আবার গার্মেন্টসে চাকুরি নেয়। এ সময় সুমির মোবাইল ফোন প্রায় সময়ই বিজি থাকত। সোহাগ অনেক বুঝানোর পর তাকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে পূনরায় পাঠিয়ে দেয় গ্রামের বাড়ি। বাড়ি গিয়ে আবার তওবা করে নিয়মিত ধর্ম-কর্ম শুরু করে। কিন্তু সুমি বাড়ি বাওয়ার ৩ দিন পর গাজীপুর থেকে রনি নামের এক লোক সোহাগকে ফোন করে সুমির অবস্থান জানতে চায়। এ সময় তার পরিচয় জানতে চাইলে রনি সুমির সদ্য বিবাহিতা স্বামী বলে জানায়।

এ ব্যাপারে সুমির কাছে জানতে চাইলে সে কোরআন শপথ করে তা অস্বীকার করে। তার ভুল হয়েছে বলে কোরআন ছুয়ে সোহাগের কাছে আবার ক্ষমা চায়। সহজ-সরল সোহাগ আবারও সুমিকে ক্ষমা করে। নতুন করে চলতে থাকে তাদের সংসার। কোরআন খতম শেষ করে সোহাগকে জানালেই নিয়মিত টাকাও পাঠানো হয় তার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে। সোহাগকে কথার ফাঁদে ফেলে আদায় করে নেয় স্বর্ণের চেইন, হাতের আংটি, কানের দুল, নুপুর। বর্তমানে তার ব্যবহৃত সবকটি নম্বর বন্ধ আছে। কিন্তু সোহাগের কাছে খবর যায় সুমি বর্তমানে প্রেম করে বিয়ে করে ৪র্থ নম্বর স্বামীর ঘর করছে। সোহাগ ছাড়াও তার আগে একটা এবং পরে আরো দুইটা বিয়ে হয়েছে। যা সুমি তার কাছে গোপন করেছে। স্বর্ণালঙ্কার ছাড়াও সুমি সোহাগের কাছে কয়েক দফায় নিজের এবং দোকানের বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং একটি সেলাই মেশিন আত্মসাৎ করেছে বলে জানান সোহাগ।

মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. সোহাগ হোসেন জানান, বর্তমানে তিনি দেশের বাহিরে আছেন। আগামী (২০১৮) প্রথম সপ্তাহে দেশে আসার কথা। দেশে এসেই ওই তরুণীর বিরুদ্ধে আইনগত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

এ ব্যাপারে জানতে সুমা আক্তার সুমির ব্যবহৃত সবকটি নম্বরে ফোন দিলে তা বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।