শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে নেমেছে মানুষের ঢল। আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেই বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষের ঢল নামে সেখানে।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ সবার পরনে শোকের প্রতীক কালো পোশাক। হাতে ফুল ও তোড়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানাতে লাইনে দাঁড়িয়েছে।

মিরপুর ১ নম্বর গোলচত্বর থেকে মাজার রোড পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুই দিক থেকে হাজার হাজার মানুষ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অপেক্ষা করছেন লাইনে দাড়িয়ে। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে উপস্থিত হন। সকাল ৭টার পরপরই মিরপুর বু‌দ্ধিজীবী কবরস্থা‌নে হা‌জির হন রাষ্ট্রপ‌তি। এরপর স্পিকারসহ অন্যান্যদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর স্মৃতিসৌধটি সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।১৪ ডিসেম্বর জাতির ইতিহাসে এক বেদনাঘন দিন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি ঘাতক বাহিনী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল পরাক্রমের সামনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতেছিল। তারা বেছে বেছে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দার্শনিক ও সংস্কৃতিক্ষেত্রের অগ্রগণ্য মানুষকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। পাকিস্তানি ঘাতকদের এ বর্বর হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছিল রাজাকার-আলবদর বাহিনী।

মহান মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছিল ঘাতকেরা। বিজয় অর্জনের পর রায়েরবাজারের পরিত্যক্ত ইটখোলা, মিরপুরসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে একে একে পাওয়া যায় হাত-পা-চোখ বাঁধা দেশের খ্যাতিমান এই বুদ্ধিজীবীদের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

কর্মসূচিঃ
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সকাল ৭টা ১০ মিনিটে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং ৭টা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, উদীচী, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, খেলাঘরসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন পৃথক কর্মসূচি নিয়েছে।