৩০ বছর বয়সী যুবক আনসার আলী। পেশায় একজন পতাকা বিক্রেতা। সারা দিন শহরের অলিগলি ঘুরে বিক্রি করেন লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা।

জাতীয় দিবসগুলো বাদে কোনো দিন ৩০০, কোনো দিন ৫০০ টাকা আয় তার। আর তা দিয়েই কোনোরকমে পাঁচ সদস্যের পরিবার চালিয়ে নেন তিনি।

অন্য পেশা রেখে কেন তিনি পতাকা বিক্রির পেশা বেছে নিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে জানান, অনেক রক্ত দিয়ে অর্জিত হয়েছে এই পতাকা। দেশপ্রেমের টানে সবার হাতে তুলে দিতে পতাকা বিক্রি করেন তিনি। আর এর থেকে আয় দিয়ে কোনোরকমে চালিয়ে নেন সংসার।

তবে বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস এলেই পাতাকা বিক্রি করে সংসারে একটু বেশিই সচ্ছলতা আনা সম্ভব হয় বলে জানান তিনি।

আনসার আলীর ভাষ্য, ফেরি করে পতাকা বিক্রি করতে দলবেঁধে চলে আসেন কুষ্টিয়া শহরে। এখানকার হোটেলে রাত্রিযাপন করেন। মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় ছুটে যান আলাদা টিম করে ভাগ ভাগ হয়ে।

কুষ্টিয়া ভেড়ামারা শহরের ডাক বাংলোর সামনের একটি চায়ের দোকানে চা খেতে খেতে কথা হয় আনসার আলীর সঙ্গে।

জানালেন পতাকা বিক্রি করে আনন্দ পান তিনি। কারণ এটি দেশের গর্ব।

আনসার আলী জানান, তার বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়। অভাবের কারণে ঠিকভাবে লেখাপড়া করতে পারেননি। সংসারে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে।

মেয়েরা প্রাথমিকে পড়ালেখা করে। পড়াশোনা বেশি না জানায় চাকরি করতে পারেননি তিনি।

পরে সংসার চালাতে শুরু করেন দর্জির কাজ। এরপর নেমে যান পতাকা বিক্রির পেশায়।

গত ৭ বছর ধরে শহর থেকে গ্রাম, পাড়া থেকে মহল্লার পথে ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করছেন তিনি। সেই আয় দিয়ে কোনোরকমে সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন।

তিনি জানান, বিভিন্ন সাইজ ও দামের জাতীয় পতাকা বিক্রি করি। বড় পতাকা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মাঝারি পতাকা ৫০-৬০ টাকা, ছোট পতাকা ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং হাত পতাকা ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।

আনসার আলী বলেন, জাতীয় দিবসগুলোতে পতাকা ভালোই বিক্রি হয়। সে সময় পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার পতাকা বিক্রি হয়। ছোট-বড় অনেকে বিজয় দিবসকে সামনে রেখে পতাকা কিনছেন।

অনেক কষ্টে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকার সম্মান দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান পতাকা বিক্রেতা আনসার আলী।