ফিলিস্তিনি জনগণ ও পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের প্রতি সংহতি জানিয়ে শুক্রবার সারা বিশ্বে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। এসব সমাবেশ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বায়তুল মুকাদ্দাস সংক্রান্ত ঘোষণার প্রতি নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করা হয়।
শুক্রবার দিনের শুরুর দিকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভ হয়। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মার্কিন দূতাবাসের সামনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা পোড়ায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক মালয়েশিয়ার সমস্ত মুসলমানকে মার্কিন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিউনিশিয়ায়ও একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার মার্কিন দূতাবাসের সামনে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করে। এ সময় তাদের হাতে নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন ছিল যাতে লেখা ছিল ‘বায়তুল মুকাদ্দাস ইসরাইলের রাজধানী নয়’ এবং ‘আমরা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আছি’।ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সা’দা প্রদেশে হুথি আনসারুল্লাহ সংগঠন ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে। রাজধানী সানায়ও একই ধরনের বিক্ষোভ-সমাবেশের কথা রয়েছে।পাকিস্তানের প্রধান ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামি পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনের বিভিন্ন শহরে শত শত বাড়তি সেনা মোতায়েন করেছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করার পর ফিলিস্তিনে শুক্রবার সম্ভাব্য যে বিক্ষোভ হতে পারে তা মোকাবেলা করার জন্য ইসরাইল এসব বাড়তি সেনা মেতায়েন করেছে।
এরইমধ্যে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসসহ বিভিন্ন সংগঠন আজ বিক্ষোভ দিবস পালনের ডাক দিয়েছে। বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে আজ ব্যাপক বিক্ষোভ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ইসরাইল সেখানে সবচেয়ে বেশি সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করেছে। গতকাল হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণাকে ফিলিস্তিনি জনগণ ও পবিত্র স্থানগুলোর ওপর আগ্রাসন অভিহিত করে শুক্রবার বিক্ষোভ পালনের আহ্বান জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস বায়তুল মুকাদ্দাসে সরিয়ে নেয়ার কথা বলেছেন। এতে ফিলিস্তিনের জনগণসহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। এছাড়া, আমেরিকার বহু মিত্র দেশ ও সংস্থা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে।




