রাস্তাঘাটে চলাফেরা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত অপরিচিত মানুষদের বাজে কটিুক্তির শিকার হওয়া বেশিরভাগ নারীর দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ।

তবে ব্যাপারটি নতুন কিছু না হলেও সবসময় এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে কী করা উচিত সেটা মাথায় আসে না কারোরই। উত্ত্যক্তকারীদের সরাসরি মোকাবেলা করা উচিত নাকি তাদেরকে এড়িয়ে যাওয়া উচিত তা নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দে ভোগেন বেশিরভাগ নারী। তবে আমর্স্টারডেমের এই নারী বের করেছেন অভিনব এক উপায়

আমর্স্টারডেমের ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী নোয়া জান্সমা তাকে লক্ষ্য করে বাজে কটুক্তি করা প্রত্যেক পুরুষের সাথে সেলফি তুলে রাখেন! তাও উত্ত্যক্তকারীদেরকে না জানিয়ে গোপনে না, তাদের সাথে কথা বলে তাদের অনুমতি নিয়ে তারপর সেলফি তোলেন তিনি। সেলফি তুলতে সবাই রাজী হয়ে গেলেও বেশিরভাগ সময় তারা নিজেরাও বুঝতে পারে না তাদের ছবিগুলি আসলে কোন কাজে ব্যবহৃত হবে।

সব ছবিগুলি যায় ইন্সটাগ্রামে। জান্সমা ইন্সটাগ্রামে “ডিয়ার ক্যাটকলারস” নামে একটি আইডি খুলে এক মাসের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই এক মাসে সে যতবার অপরিচিত পুরুষ কর্তৃক কটু কথার সম্মুখীন হয়েছে তার প্রতিটির ছবি তিনি আপলোড করেছেন এই পাতায়। মাত্র এক মাসব্যাপী আপলোড হওয়া ৩০টি ছবির এই ইন্সটাগ্রাম পাতার ফলোয়ার সংখ্যা বর্তমানে প্রায় দুই লাখ পঁয়ত্রিশ হাজার!ত্যেকটা ছবি একইভাবে তোলা। ছবিতে জান্সমাকে দেখা যায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে। পেছনে থাকে উত্ত্যক্তকারীরা। ছবিতে তাদের মুখ খোলা থাকে। বোঝাই যায় যে জান্সমা অপ্রস্তুত বোধ করছেন আর তাকে নিয়ে কিছু বলছে পেছনে থাকা উত্ত্যক্তকারীরা। নিউজিল্যান্ডভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম হাট পারুলকে জান্সমা বলেন যে প্রথমবার সেলফি তোলার আগে উত্ত্যক্তকারীর অনুমতি নেবার সময় সে বেশ আনন্দের সাথে সেলফির জন্যে পোজ দিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমনটা হয়েছে সেলফির ক্ষেত্রে।

তিনি আরো লেখেন, “অনেকেই জানেন না একজন নারীকে দিনে কতবার উত্ত্যক্ত হতে হয় বা কীরকম পরিস্থিতিতে তারা কটুক্তির সম্মূখীন হয়। আমি এক মাসে আমাকে উত্ত্যক্ত করা ব্যক্তিদের ছবি আপনাদেরকে দেখাবো।“

এরকম কিছু একটা করার পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই ছিলো জান্সমার মাথায়। তবে ট্রেনে দুইজন ব্যক্তি তাকে উত্ত্যক্ত করার পর এই ব্যাপারে কিছু একটা করার সিদ্ধান্তে আসেন তিনি। এক মাসের এই প্রকল্প চলাকালীন মাত্র একজন ব্যক্তি তার কাছে সেলফি তোলার কারণ জানতে চেয়েছে! উত্ত্যক্তকারীরা এসব ব্যাপারে একেবারেই অবাক হয় না। কারণ তাদের কাছে উত্ত্যক্ত করার ব্যাপারটাই স্বাভাবিক, যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্টকে এমনটাই বলেন জান্সমা।