এ মাসের দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় সপ্তাহের দিকেই মুক্তামনিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন। আর বাড়ি যাওয়ার আগে মুক্তামনি তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একবার দেখার আকুতি জানিয়েছে।

মুক্তামনি বলে, আমি এই হাসপাতালে আসার পর আমার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আমি তাকে দেখতে চাই। আমাকে এখানকার চিকিৎসকরা বলেছিল, তোমাকে যেদিন ছুটি দেব তার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করিয়ে দেব। আমারও খুব আশা, তার সঙ্গে যদি একবার দেখা করতে পারতাম।

এর আগে গত ১২ জুলাই ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে গত ১২ জুলাই ভর্তি করা হয় মুক্তাকে। প্রথমদিকে রোগটিকে বিরল রোগ বলা হলেও গত ৫ আগস্ট বায়োপসি করে জানা যায় মুক্তামনির রক্তনালীতে টিউমার ছিল, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞনের ভাষার হেমানজিওমা বলা হয়।

গত ১২ আগস্ট তার হাতের প্রথম অপারেশন করেন ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট ও ঢামেক হাসপাতালের একদল চিকিৎসক মুক্তামনির হাতে প্রথম অস্ত্রোপচার করেন। এরপর একে একে ছয়টি অস্ত্রোপচার করে হাত থেকে ফেলা দেওয়া হয় অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, মুক্তামনির বেশ কয়েকটি অপারেশনের পর তার হাতের টিউমার পুরোপুরি সরাতে পেরেছি, এখন সে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। পুরো হাতে চামড়া লাগানোর কাজও শেষ, আশা করছি কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই চামড়া লেগে যাবে হাতে। বর্তমানে হাতে কিছুটা ফোলা ভাব রয়েছে যেটা ‘প্রেসার ব্যান্ডেজ’ দিয়ে কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আরও দুই সপ্তাহের মতো হাসপাতালে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে, চলতি মাসের দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় সপ্তাহের দিকেই আমরা ছেড়ে দেব। তবে মুক্তামনি এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নয় জানিয়ে বর্ষীয়ান এ চিকিৎসক বলেন, মুক্তার শরীরের ভেতরে রোগটা রয়ে গেছে। পরবর্তীতে সে গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে এলে তার মেডিকেল ট্রিটমেন্ট আবার শুরু করব।

একইসঙ্গে মুক্তামনির হাতের অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড অপারেশন করে অপসারণ করা হলেও মাথা, পা’সহ শরীরের অন্যান্য স্থান রয়েছে আক্রান্ত। সেসব জায়গায় চিকিৎসা শুরু করতে হবে বলেন ডা. সামন্ত লাল সেন। অপরদিকে, বাড়ি যাওয়ার জন্য গত কিছুদিন থেকেই বায়না ধরেছিল মুক্তামনি।

একইসঙ্গে মুক্তামনি তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ডা. সামন্ত লাল সেন, বার্ন ইউনিটের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালামসহ প্রতিটি চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলে তাদেরকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। তারা আমার জন্য এত চেষ্টা করেছেন, আমার হাত ভালো করতে চেয়েছেন, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন এত মানুষের চেষ্টা, পরিশ্রম যেন বৃথা না যায়।

অপরদিকে, মুক্তামনির মা আসমা খাতুন বলেন, মেয়েটাকে নিয়ে কত কষ্ট করলাম। আর শুধু আমরা নই, এখানকার চিকিৎসকরা যা করেছেন তার কোনো তুলনা হতে পারে না।, মেয়ের হাত নিয়ে যা হলো গত কয় মাসে সেটা আমাদের কাছে একটা যুদ্ধের মতো, আর এখন ভালো করার মালিক আল্লাহ। তিনি যদি চান তো আমার মেয়েটার হাত ঠিক হয়ে যাবে। তাই সবার কাছে দোয়া চাই, আমার মেয়েটার হাতটা যেন ভালো হয়ে যায়।