গামাগের স্লোয়ারটা বুঝতে পারলেন না। টাইমিংয়ে গড়বড় করে তুলে দিলেন ক্যাচ। দলের প্রয়োজনে ঝড়ের বেগে রান তুলছিলেন। সেটাই কাল হলো। ৫৮ বলে ৫০ করে থামলেন বিরাট কোহলি। আর তাতে হাত ফসকে বেরিয়ে গেল ক্রিকেটের বড় একটা বিশ্ব রেকর্ড। এক বর্ষপঞ্জিতে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক রানের রেকর্ড থেকে মাত্র ১৫ রান দূরে ছিলেন তখন। কিছুক্ষণ পর ইনিংসও ঘোষণা করে দিয়েছেন। ৪১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা চতুর্থ দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ৩১ রান নিয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাথুস-চান্ডিমালরা ঘুরে না দাঁড়ালে আরও একটি পরাজয় অপেক্ষা করছে লঙ্কানদের সামনে।

রিকি পন্টিং হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে পারেন। তাঁর রেকর্ডটা অন্তত অক্ষত থাকল। কোহলির সামনে অবশ্য এখনো সুযোগ আছে। দিল্লিতে টেস্ট সিরিজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনটি ওয়ানডে আর তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে ভারত। কোহলি এরই মধ্যে ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি সিরিজেও থাকার সম্ভাবনা নেই। তবে আর কোনো বছরে এতটা আগুনে ফর্মে থাকতে পারবেন কি না, তা তো সংশয়ের মধ্যে থাকলই। বিশ্ব রেকর্ডটা ভাঙার এটাই সেরা সুযোগ।

আর তা ভাঙতে চাইলে কোহলির সামনে এখন একটাই পথ খোলা। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে যে ছুটিটা নিয়েছেন জাতীয় দল থেকে, তা বাতিল করে ওয়ানডে অথবা টি-টোয়েন্টি সিরিজে ফিরে আসা।

কোহলি অবশ্য গত কিছুদিনে এত এত রেকর্ড ভেঙেছেন, রেকর্ড ভাঙারই রেকর্ড হয়ে গেছে বোধ হয়। আজ ফিফটি করে আউট হওয়ার আগেই আরও একটা ভারতীয় রেকর্ড নিজের করে নিলেন। প্রথম ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনটি ভিন্ন টেস্ট সিরিজে ৬০০ বা এর বেশি রান তোলার রেকর্ড। ২০১৪-১৫ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬৯২, ২০১৬-১৭ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৫৫ এবং এই সিরিজে ৬১০ রান।

ভারতীয় ব্যাটিং রেকর্ড ভাঙাও কম কৃতিত্বের নয়। ক্রিকেটের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানের অনেকেই তো এই ভারতেরই। কিন্তু তবু এক বর্ষপঞ্জিতে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক রানের বিশ্ব রেকর্ডটা কোহলির জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে থাকতে পারে। এত কাছে এসে সুযোগ থাকার পরও...মাত্রই তো ১৬টি রান!
কোহলি এখন কী করবেন?