শিশুসহ দুই রোহিঙ্গা নারীকে মালয়েশিয়া পাঠানোর উদ্দেশ্যেই তাদের ঢাকায় নিয়ে আসে দালাল রাজু মোল্লা। ঢাকার ডেমরা থানার মাহমুদ নগরে একটি বাসায় তিনদিন অবস্থান করে।

তাদের পাসপোর্ট করিয়ে দিতে কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসর্পোট অফিসের দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজু। কিন্তু তাদের সে পরিকল্পনা ধরে ফেলে র‌্যাব। পরে শিশুসহ দুই রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার এবং দুই দালালকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক ডিআইজি মো. শাহবুদ্দিন খান।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে ডেমরার একটি বাসা থেকে শিশুসহ দুই রোহিঙ্গা নারীকে উদ্ধার করে র‌্যাব। উদ্ধারকৃতরা হলেন- সেতারা বেগম, তার মেয়ে শফিকা এবং জাহেদা বেগম। এছাড়া রোহিঙ্গা নারীদের আশ্রয় দেয়া ও তাদের কক্সবাজার থেকে ঢাকায় নিয়ে আসার অপরাধে রাজু মোল্লা ও মোখলেছুর রহমান নামে দুই দালালকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সহিংসতা শুরুর পর ৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা নারী সেতারা ও জাহেদা অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সেতারা বেগমের ভাই সলিমুল্লাহ তিন বছর আগেই অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যায়। আনুমানিক ছয় মাস পূর্বে সলিমুল্লাহ’র সঙ্গে মোবাইল ফোনে জাহেদার বিয়ে হয়। বাংলাদেশে প্রবেশের পর তারা টেকনাফের সোয়ানখালীতে একটি বাসায় আশ্রয় নেয়। পরে তারা কক্সবাজারের কলাতলীতে একটি ভাড়া বাসায় ওঠে এবং স্থানীয় একটি হোটেল রান্নাবান্নার কাজ নেয়।

দালাল রাজু মোল্লার ভাতিজা রফিকুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় জাহেদার স্বামী সলিমুল্লার সঙ্গে বসবাস করে। সলিমুল্লাহ’র অনুরোধে রফিক তার চাচা রাজুকে তার বোন সেতারা ও স্ত্রী জাহেদার পাসপোর্ট তৈরি করে মালয়েশিয়া পাঠাতে বলে। এই কারণে ২৫ নভেম্বর জাহেদা, সেতারা ও তার মেয়ে শফিকাকে নিয়ে দালাল রাজু ঢাকার ডেমরায় অন্য দালাল মোখলেসুরের বাসায় আশ্রয় নেয়। ২৮ নভেম্বর কেরানীগঞ্জ আঞ্চলিক পাসর্পোট অফিসে গিয়ে দালালদের মাধ্যমে পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়াও চালায়।

র‌্যাব-১০ সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. গাউসুল আজম আটক রোহিঙ্গা সেতারা বেগম ও তার মেয়ে শফিকাকে বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবং জাহেদা বেগমকে জামতলী ক্যাম্পে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দালাল রাজু মোল্লাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং মোখলেছুর রহমানকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন।