মাসখানেক আগে সোশ্যাল মিডিয়া-সহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল এক নবদম্পতির ছবি। দেবীপ্রসাদ ভট্টাচার্য ও মিত্রাতিথি দে। পেশায় দু’জনেই অধ্যাপক। ১৮ অক্টোবর নিজেরা রেজিস্ট্রি বিয়ে করেন তাঁরা।

নিজেদের বিয়েতে প্রীতিভোজে আত্মীয়-বন্ধুদের না খাইয়ে তাঁরা নেন এক অভিনব সিদ্ধান্ত। বিয়ের চার দিন পরে ২২ অক্টোবর আদ্যাপীঠে প্রায় হাজারখানেক হতদরিদ্র মানুষের মুখে তাঁরা অন্ন তুলে দেন।

তখনই মিত্রাতিথি এবেলা.ইন-কে জানিয়েছিলেন, পুরুলিয়ায় আর একটি ভোজের আয়োজন করবেন তাঁরা। বলেছিলেন, ‘‘আদ্যাপিঠে ভেজ খাওয়ানো হয়েছে। কিন্তু এখানে আমরা নন ভেজ খাওয়াতে চাই। নভেম্বরেই আমরা যাচ্ছি ওখানে।’’

সেই কথামতো বৃহস্পতিবার তাঁরা গেলেন পুরুলিয়ায়। সেখানকার দুঃস্থ শিশুদের জন্য সেখানে আয়োজন করেছিলেন আমিষ ভোজের। কেবল খাওয়া দাওয়াই নয়, সঙ্গে ছিল উপহারের বন্দোবস্তও।
আগেই মিত্রাতিথি জানিয়েছিলেন, পুরুলিয়ায় এক ভদ্রলোক আদিবাসী শিশুদের জন্য কাজ করেন। তার সঙ্গে আশপাশের রাখাল শিশুদেরও সঙ্গে চেয়েছিলেন তাঁরা। মাসখানেকের সেই পরিকল্পনা সত্যি করলেন মিত্রাতিথি ও দেবীপ্রসাদ।

পুরুলিয়ার এই অনুষ্ঠানের ছবি আজ নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করেন মিত্রাতিথি। সঙ্গে লেখেন, অপাপবিদ্ধ ও সরল শিশুদের হাসির ভিতর দিয়েই তাঁরা তাঁদের বিয়ের শ্রেষ্ঠ উপহারটি পেলেন।

নিঃসন্দেহে তাঁদের এই উদ্যোগ অভিনব। তাঁদের ইচ্ছে, তাঁদের এই পরিকল্পনা অন্যদের মধ্যেও জাগিয়ে তুলুক এমনই ইচ্ছেকে। অঢেল আয়োজন, বিপুল অর্থ খরচ করে দেওয়া ভোজের আতিশয্যের চেনা ছবির দিকে না গিয়ে অন্যরাও এ ভাবেই জীবনের নতুন ইনিংসের শুরুটা এমন ভাবে করুক। দরিদ্র বৃদ্ধ ও দুঃস্থ শিশুদের মুখে অন্ন তুলে দিয়ে সেই শুভ কামনাকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করুক নতুন জীবন।
মিত্রাতিথি-দেবীপ্রসাদের রোপন করা এই বীজ মহীরুহে পরিণত হোক, এটাই কাম্য বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।